কাশিমপুর ভূমি অফিসের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বহীনতার আরও একটি উদাহরণ দেখা গেছে মাধবপুর এলাকায়।
হেলাল নামে এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে বেআইনিভাবে একটি আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করলেও এ বিষয়ে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কাশিমপুর ভূমি অফিস।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভূমি অফিসের নায়েব (ভূমি কর্মকর্তা) মোঃ ওয়াজেদ আলী বিষয়টি জানা সত্ত্বেও উদাসীন ভূমিকা পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হেলাল নামের উক্ত ব্যক্তি মাধবপুর এলাকায় সরকারি খাস জমি বরিশালের (টেক) দখল করে সেখানে ইট, বালু, সিমেন্ট দিয়ে একটি আধাপাকা বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, নির্মাণকাজটি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ্য ও নিয়ম বহির্ভূতভাবে চলছে।
গণমাধ্যম কর্মীরা এবিষয়ে কাশিমপুর ভূমি অফিসে একাধিক বার বিষয়টি জানালে তিনি বলেন আমরা এবিষয়ে কাশিমপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। তবে হেলাল এর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ বা জিডি কাশিমপুর থানায় পাওয়া যায়নি।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, “হেলাল দিনদুপুরে শ্রমিক নিয়ে বাড়ি তুলছে। ভূমি অফিসের কারও এ খবর না জানার কথা নয়। ভূমি অফিস কর্তৃপক্ষ হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি উপেক্ষা করছেন।”
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, বেআইনি দখল ও নির্মাণ প্রতিরোধে ভূমি অফিসের তৎক্ষণাৎ ভূমিকা রাখা বাধ্যতামূলক।
প্রয়োজন হলে ভূমি সহকারী কমিশনারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা। কিন্তু কাশিমপুর ভূমি অফিস সে দায়িত্ব পালন করছে না বলে অভিযোগ।
এলাকাবাসী বলছেন ভূমি অফিস যদি তাদের দায়িত্বে সচেষ্ট হতো, তাহলে এ ধরনের বেআইনি নির্মাণ কখনই সম্ভব হতো না। আমরা প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এদিকে, হেলালের বেআইনি বাড়ি নির্মাণের বিষয়ে তার কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা এখন প্রশ্ন তুলছেন, ভূমি অফিস যদি বেআইনি দখল ও নির্মাণ রোধে কোনো ভূমিকা না পালন করে, তাহলে তাদের অফিস রাখার প্রয়োজনীয়তাই কী?
মাধবপুরের সাধারণ মানুষ আশা করছেন, জেলা প্রশাসন ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উচিত কাশিমপুর ভূমি অফিসের এই নিষ্ক্রিয়তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।