গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুর থানাধীন ১নং ওয়ার্ডের বিশ্ববিদ্যালয় সোনালীপল্লি সড়কটি এখন পথচারী ও চালকদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ব্যস্ততম এই সড়কের ঠিক মাঝখানে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে বেশ কয়েকটি বৈদ্যুতিক খুঁটি, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় সড়কের পিচঢালা রাস্তার মাঝখানে এবং বাঁকের মুখে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে খুঁটিগুলো অবস্থান করছে। কোনো কোনো খুঁটিতে আবার ভারী ট্রান্সফরমার বসানো রয়েছে। রাস্তার প্রশস্ততা বাড়লেও খুঁটিগুলো আগের জায়গাতেই রয়ে গেছে, যা এখন সরাসরি মূল সড়কের অংশ। বিশেষ করে রাতের আঁধারে বা দ্রুতগামী যানবাহনের সামনে এই খুঁটিগুলো সাক্ষাৎ যমদূত হিসেবে আবির্ভূত হয়।দুর্ঘটনার ঝুঁকি, রাস্তার ঠিক মাঝখানে এবং সাদা ডিভাইডার লাইনের ওপর খুঁটি থাকায় গাড়ি বা মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি ধাক্কা খাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
সড়কের বাঁকগুলোতে খুঁটি থাকায় চালকরা উল্টো দিক থেকে আসা গাড়ি দেখতে বাধা পাচ্ছেন। খুঁটিগুলোতে তারের জটলা অত্যন্ত নিচু হয়ে আছে, যা বৃষ্টি বা ঝড়ের দিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।এলাকাটি শিল্পাঞ্চল হাওয়াতে এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এবং অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, রাস্তা বড় হয়েছে কিন্তু খুঁটি সরানো হয়নি। রাতে এই পথে চলাফেরা করা মানে জীবন বাজি রাখা। প্রশাসন কি বড় কোনো লাশের অপেক্ষায় আছে?
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই খুঁটিগুলো মূল সড়ক থেকে সরিয়ে রাস্তার পাশে স্থাপন করা হোক। গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এবং সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়হীনতার অভাবেই এই জনভোগান্তি দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
এলাকাবাসীর জোর দাবি—জনস্বার্থে এবং জানমালের নিরাপত্তার খাতিরে অতিদ্রুত এই ‘মরণফাঁদ’ অপসারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় সড়কটিকে নিরাপদ করা হোক।