1. infojayjaysomoy@gmail.com : দৈনিক যায়যায় সময় : দৈনিক যায়যায় সময়
  2. info@www.jayjaysomoy.com : দৈনিক যায়যায় সময় :
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নীলফামারী রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩’র কোম্পানি কমান্ডার মেজর মীর ইশতিয়াক আমীনকে বিদায় সংবর্ধনা কাশিমপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৪০ পিস ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ আটক -৩ অন্যের আনন্দকে নিজের খুশি মনে করতে হয় রাসেলদের নির্বাচনের পরও মানুষের দুয়ারে গাজীপুরের এমপি ধামইরহাটে পৌরসভার রাস্তার কাজের উদ্বোধন করেন এমপি এনামুল হক নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রাখলে দেশও পরিষ্কার থাকবে: মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বরগুনায় ডিবি’র পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার-১ নিম চারা রোপনের মাধ্যমে সিটির কার্যক্রম শুরু করলেন শওকত হোসেন সরকার নিয়ামতপুরে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ১৪ জন ট্যালেন্টপুলে ও ২৯জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে

অন্যের আনন্দকে নিজের খুশি মনে করতে হয় রাসেলদের

সবুজ সরকার নওগাঁ:-
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

পকেটে থাকা ফোনে বারবার কল আসলেও সেটা রিসিভ করতে পারছিলেন না রাসেল তালুকদার। ফোন রিসিভ করবেন কিভাবে? দুই হাতো তো অক্টোপ্যাডের লাঠি। বাজানো বন্ধ করলেই লোকজনের আনন্দে ছেদ পড়ে যাবে। তাই বাজানোটা চালু রাখতেই হলো। বাজানো শেষ হলে ফোন রিসিভ করে জানতে পারলেন তাঁর ছেলে সন্তান পৃথিবীতে এসেছে। খবর শুনে যারপরনাই খুশি রাসেল। তবে ছুটে যেতে পারেননি ছেলের কাছে। মুঠোফোনে ছেলের ছবি দেখেই খুশি থাকতে হয়েছে। নিজের খুশির চাইতে অন্যকে খুশি করার কর্মটাই শিখেছেন তিনি। তাই অন্যের আনন্দের কাছে নিজের আনন্দটা ম্লান হয়ে গেছে।

রাসেল তালুকদারের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলায়। গত বুধবার নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার একটি বিয়ে বাড়িতে বাজাতে এসেছিলেন তিনি। সেখানেই রাত সাড়ে আটটার দিকে ছেলে ভূমিষ্ঠ হওয়ার খবর পান তিনি। আজ শুক্রবার রাতে (২৭ ফেব্রুয়ারি) ছেলেকে দেখতে যাওয়ার কথা রয়েছে।

রাসেল তালুকদার বলেন, ‘আমার শ্বশুর বাড়ি সাতক্ষীরাতে। সেখানেই ছেলের জন্ম হয়েছে। ছেলে হওয়ার খবরটা শুনে খুবই খুশি হয়েছি। ইচ্ছে হচ্ছিল তখনই ছেলের কাছে ছুটে যাই। ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই। বিয়ে বাড়ির লোকজন আমাদের টাকা দিয়ে ভাড়া করে এনেছে। আমি চলে গেলে বিয়ে বাড়ির আনন্দ হবে না। তাই এত লোকের আনন্দের কথা চিন্তা করে ইচ্ছা থাকলেও ছেলের কাছে যেতে পারিনি।’ আলাপচারিতায় তিনি জানালেন, তাঁদের অভাবের সংসার। বাবা সার্কাসের ম্যানেজারী করতেন। ছোট বয়সেই তিনি যোগ দেন সার্কাস দলে। দেখাতেন শারীরিক কসরতের খেলা। সেখানে ‘ড্রামসেট’ বাজানোর প্রতি আগ্রহ জন্মে। একদিন-দুইদিন শিখতে শিখতে বাজানোটা রপ্ত করে ফেলেন। তারপরে শেখেন অক্টোপ্যাড বাজানো। সেটা কেনার টাকা ছিল না তাঁর কাছে।

বড় বোনকে বিষয়টা জানাতেই কিছু গহনা তুলে দিলেন ছোট ভাইয়ের হাতে। সেটা বন্ধক রেখেই কেনা হলো প্যাড। এখনও সেটাই বাজান রাসেল।

তিনি আরও জানালেন, সার্কাস দলেই বেশি বাজান তিনি। সার্কাস দলের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়ান তিনি। এখন মেলা নেই। তাই বিয়ে বাড়িতে বাজাতে এসেছেন। সার্কাস ছাড়াও গায়ে হলুদ, বিয়ে বাড়ি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাউল গান, বিচ্ছেদ গানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডাক পড়লেই ছুটে যান।

তিনি বলেন, আমাদের জীবনটাই এইরকম। মানুষকে আনন্দ দিতে গিয়ে নিজের আনন্দটাই আর করা হয় না। মানুষের আনন্দটাকে নিজের আনন্দ মনে করতে হয়। এই অনুষ্ঠানে বাজানোর জন্য টাকা নিয়েছি, জবান যখন দিয়েছি তখন বাজাতে আসতেই হবে। এটাই আমার কর্ম। কর্ম করেই খেতে হবে। তাই বাজাতে চলে এসেছি।

রাসেলের সঙ্গে কী বোর্ড বাজাচ্ছিলেন আনন্দ কুমার। তিনি বললেন, ‘রাসেল ছেলে হওয়ার খবরটা শোনার সঙ্গে আমাকে জানিয়েছে। খবরটা শুনে আমিও খুশি হয়েছি। অনুষ্ঠান শেষ করেই ছেলের কাছে যেতে বলেছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সকল লেখা, ছবি ও অন্যান্য কনটেন্ট “দৈনিক যায়যায় সময়”-এর মালিকানাধীন। অনুমতি ব্যতীত কোনো কনটেন্ট কপি, ব্যবহার, বিতরণ বা পুনঃপ্রকাশ করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। যদি কোনো লেখা, ছবি বা তথ্যের উপর আপনার স্বত্বাধিকার দাবি থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। যথাযথ যাচাই-বাছাই ও প্রমাণ উপস্থাপনের ভিত্তিতে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট অপসারণ করা হবে।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট