নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ৩ নং বালাগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি ভাতা কার্ড করে দেওয়ার নামে টাকা দাবি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় জনগণ।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল ১১টায় বালাগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোছাঃ কহিনুর বেগম, চিব মোঃ গোলজার রহমান, ইউপি সদস্য মোঃ হিরু চৌধুরী ও মোঃ মোসলেম উদ্দিন মাতৃকালীন ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও ভিজিডি কার্ড করে দেওয়ার নামে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করছেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “সরকারি এসব ভাতা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের কাছ থেকে কার্ড করে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া হচ্ছে। গরিব মানুষ হয়েও আমরা বাধ্য হয়ে টাকা দিচ্ছি।
তারা আরও বলেন, “এই ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। মানববন্ধন থেকে বক্তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুকূলে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জলঢাকা উপজেলার সমাজসেবক ও এনসিপি নেতা সোহাইমিনুর রহমান সানা, আবু তালেব, আব্দুল হামিদ, মিঠু, সোহেল, মিলন ও লাল চাঁন প্রমুখ।
এ বিষয়ে বালাগ্রাম ইউপি সচিব গোলজার রহমানকে ইউনিয়ন পরিষদে পাওয়া না যাওয়ায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
অন্যদিকে প্যানেল চেয়ারম্যান মোছাঃ কহিনুর বেগম এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। অপর দুই ইউপি সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পূরবী রানী বলেন, “এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা অবশ্যই দুঃখজনক। স্মারকলিপি পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।