পাবনা জেনারেল হাসপাতালে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার ফলে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৫ জন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি পৃথক ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ চালু করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত মোট ১১৮ জন হামে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে গত এক সপ্তাহে এই চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। ৩৮ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ২০৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন, যার মধ্যে ২৫ জনই হামে আক্রান্ত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বারান্দায় কাচ দিয়ে ঘেরা বিশেষ আইসোলেশন কর্নারে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের অধিকাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে। শিশুদের জ্বর, হামের পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট ও পেট ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। সদর উপজেলার দুবলিয়া ও হিমাইতপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মায়েরা তাদের সন্তানদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষ জানান শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসক তানভীর ইসলাম জানান, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, হামের প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুদ পর্যাপ্ত রয়েছে। রোগীর সংখ্যা আরও বাড়লে আইসোলেশন কর্নারের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ জানান, কেবল জেনারেল হাসপাতালেই নয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও হামের রোগী আসছে এবং সেখানেও পৃথক কর্নার খোলা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণত হামের প্রথম টিকা ৯ মাস বয়সে দেওয়া হয়, কিন্তু এবার আক্রান্তদের বেশিরভাগই ৯ মাসের কম বয়সী শিশু, যা নতুন করে ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।