নওগাঁর নিয়ামতপুরে সরকারি খাস পুকুর দখল ও মাছ চুরি এবং ইজারা গ্রহণকারী ব্যক্তিকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম মো. হাবিবুর রহমান। বাড়ি উপজেলার সুলতানপুর এলাকায়। আর অভিযুক্ত মো. আজিজুল, মো. দারিফ, মো. বাবলু ও মো. ফরিদুল একই এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. হাবিবুর রহমান উপজেলার সুলতানপুর মৌজায় সরকারি বিধি মোতাবেক তিন বছরের জন্য ইজারা নিয়ে একটি পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছেন। প্রায় এক বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে পুকুরটি ভোগদখলে থাকলেও হঠাৎ করে কিছু ব্যক্তি রাতের আঁধারে পুকুর থেকে মাছ চুরি করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার বিষয়টি টের পেয়ে পুকুরে ডাল পুঁতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হলে অভিযুক্তরা রাতের অন্ধকারে সেই ডাল তুলে নিয়ে যায়। গত ২৯ মার্চ বেলা আনুমানিক ১২টার দিকে ভুক্তভোগী পুকুরে ডাল দিতে গেলে পুকুরপাড়ের বাসিন্দা আজিজুলসহ কয়েকজন তাকে বাধা প্রদান করেন।
এ সময় অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং পুকুরে ডাল দিলে সব মাছ তুলে নেওয়া ও পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান জানান, অভিযুক্তদের অব্যাহত হুমকির কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। তার সঙ্গে যৌথভাবে পুকুরে মাছ চাষ করা শেয়ারদার মোরসালিন বলেন, অনেক কষ্ট করে পুকুরে মাছ চাষ করছি। পুকুরে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মাছ রয়েছে। এগুলো চুরি হয়ে গেলে আমরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আজিজুলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী সেলিনা ফোনটি রিসিভ করেন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা কোনোভাবেই পুকুরের মাছ চুরি করেননি। তবে পুকুরপাড়ের ঘাট ব্যবহার নিশ্চিত রেখে ডাল পুঁততে বলেছেন এবং দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত পুকুরে না আসার অনুরোধ করেছেন।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।