ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুশীল চন্দ্র মিস্ত্রির বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও সরকারি সম্পদ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য সরকারি বরাদ্দে নির্মিত ওয়াশ ব্লক দখল করে তিনি সেটিকে ব্যক্তিগত অফিস ও শয়নকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের গাছ চুরি, ভুয়া শিক্ষককে রক্ষা এবং নতুন টিউবওয়েল স্থাপনে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্মিত ওয়াশ ব্লকটি বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
এদিকে বিদ্যালয়ের গাছ কেটে বিক্রি ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগেও প্রধান শিক্ষককে ঘিরে আলোচনা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের কাঠ ব্যবহার করে তিনি নিজের বাড়ির জন্য আসবাবপত্র তৈরি করেছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও অভিযোগ উঠেছে, গেজেট অনুযায়ী বিদ্যালয়ে একজন ভুয়া শিক্ষকের অস্তিত্ব থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তাকে রক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ে সরকারি বরাদ্দে নতুন টিউবওয়েল আসলেও সেটি স্থাপন না করে পুরনো টিউবওয়েলে নতুন লাইন সংযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সুশীল চন্দ্র মিস্ত্রি বলেন, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় প্রয়োজনের তাগিদে তিনি ওয়াশ ব্লকটি ব্যবহার করছেন। তবে গাছ কাটা, কাঠ ব্যবহারের অভিযোগ ও ভুয়া শিক্ষক সংক্রান্ত বিষয়ে তার কাছ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মকবুল হোসেন জানান, বিদ্যালয়কে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।