জয়পুরহাট-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে রবিবার বিকেল ৪টায় কালাই বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল শেষে ব্যানার হাতে নিয়ে রাস্তায় শুয়ে পড়েন তারা। পরে টায়ার জ্বালিয়ে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফার সমর্থিত তৃণমূল নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, ১৭ বছর ধরে ত্যাগ, পরিশ্রম ও রাজপথে সক্রিয়তার মূল্যায়ন না করে তাদের মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে “অতিথি পাখি”, অরাজনৈতিক ও জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত সাবেক ডিসি আব্দুল বারীকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে ঘোষণা দেন—“এই মনোনয়ন মানা যাবে না, মানব না”। তাদের এক দফা দাবি—সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফাকেই পুনরায় মনোনয়ন দিতে হবে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, ঘোষিত প্রার্থী আব্দুল বারীকে এ আসনের সাধারণ মানুষ চেনেন না। স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা নেই, মাঠের রাজনীতির সঙ্গেও তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তৃণমূলের দাবি, জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিলে দল আরও শক্তিশালী হবে; তাই মনোনয়ন দ্রুত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।
জেলা যুবদল নেতা এফতাদুল বলেন,
“আমরা ১৭ বছর ধরে আন্দোলন করেছি—হুলিয়া মাথায় নিয়ে পালিয়ে থেকেছি, দুঃসময়ে রাজপথে ছিলাম। কিন্তু ডিসি বারী তো দলের কেউ নন। এ ১৭ বছর তিনি কোথায় ছিলেন? যখন আমরা লুকিয়ে ছিলাম, তিনি কি আমাদের খোঁজ নিয়েছেন?”
তৃণমূলের ভোটার মজিবর রহমান বলেন,
“আমি সাধারণ কর্মী হয়েও জেলে গেছি, বাড়ি ছাড়া হয়েছি, না খেয়ে দিন কাটিয়েছি। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা আমাদের খোঁজ নিয়েছেন। তাকে বাদ দিয়ে একজন আমলাকে কেন মনোনয়ন দেওয়া হলো? তিনি মাঠের রাজনীতির কিছুই বোঝেন না।
বিক্ষোভ চলাকালে নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনেতা তারেক রহমানের কাছে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।