গাজীপুরের টঙ্গী তুরাগ তীরবর্তী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে শুক্রবার ফজরের পর বাংলাদেশের মাওলানা ওমর ফারুক সাহেবের আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরায়ে নেজামের আয়োজনে ৫ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা শুরু হয়েছে। আগামী ২ ডিসেম্বর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে এ পাঁচ দিনের এই ধর্মীয় জমায়েত শেষ হবে। বিশ্ব ইজতেমার প্রায় ৪০ দিন আগে নিয়মিতভাবে এ জোড় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শুধুমাত্র তিন চিল্লাধারী বা তদূর্ধ্ব সময় লাগানো দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা অংশ নিতে পারেন। পাশাপাশি কমপক্ষে এক চিল্লা লাগানো ওলামায়ে কেরামও এতে শামিল হয়েছেন।
আজ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহত্তর জুমার জামাত। এতে ইমামতি করেছেন ইজতেমার বাংলাদেশের শীর্ষ মুরুব্বি হাফেজ মাওলানা জোবায়ের।
জোড় ইজতেমাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ময়দানের উত্তর-পূর্ব কোণে টিনশেড মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে ইবাদত-বন্দেগি ও জিকির-আসকারে মশগুল রয়েছেন। একই সঙ্গে মুরুব্বিদের গুরুত্বপূর্ণ নসিহত ও বয়ান মনোযোগ দিয়ে শুনছেন তারা।
ইজতেমার মিডিয়া সমন্বয়কারী হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, প্রথম দিনের বয়ানকারীদের মধ্যে শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা ওমর ফারুক। কারগুজারি করেন দিল্লির মাওলানা আব্দুর রহমান। বাদ জুমা বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা ফারুক।
এছাড়াও বাদ আসর পাকিস্তানের মাওলানা আহমদ বাটলা এবং বাদ মাগরিব দিল্লির মাওলানা আব্দুর রহমান বয়ান করবেন।
শুরায়ে নেজামের ৫ দিনব্যাপী এ জোড় ইজতেমায় দেশের চিল্লাধারী মুসল্লিদের পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন বিশ্বের প্রায় ১৭টি দেশের ৪৩৬ জন বিদেশি মেহমান। এনএসআই সূত্র জানিয়েছে—শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পাকিস্তান থেকে ৩০৮ জন, ভারত থেকে ৭০ জন, কিরগিজস্তান ১০ জন, কানাডা ৯ জন, মিয়ানমার ৩ জন, ইয়েমেন ৪ জন, চীন ১ জন, সৌদি আরব ৬ জন, তিউনিসিয়া ১ জন, যুক্তরাজ্য ৭ জন, ইতালি ২ জন, নাইজার ১ জন, আফগানিস্তান ৬ জন, যুক্তরাষ্ট্র ১ জন, জার্মানি ১ জন ও জাপান থেকে ১ জন মুসল্লি নির্ধারিত স্থানে অবস্থান নিয়েছেন।
সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আধ্যাত্মিক আবহে চলছে বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ ধর্মীয় সমাবেশ।