মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পাবনা শহর ও আশপাশের এলাকায় মোটরসাইকেলের পরিবর্তিত সাইলেন্সার থেকে সৃষ্ট বিকট শব্দে জনমনে চরম অস্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে। বিজয় দিবসের আনন্দঘন পরিবেশে এক শ্রেণির তরুণদের মোটরসাইকেল নিয়ে বেপরোয়া চলাচল ও উচ্চ শব্দে সাইলেন্সার ব্যবহারের ফলে সাধারণ মানুষ বিরক্তির মুখে পড়েন।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কাজ করা সংগঠন, ইয়েলো ল্যাম্প এর সভাপতি মো: শহিদুল্লাহ খান উজ্জ্বল এর অভিমত
বর্তমানে তরুণরা শখের বশে মোটরবাইকে যে বিকট শব্দের সাইলেন্সর ব্যবহার করে এবং হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করে, এটা মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। এটা সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে মৃত্যুর কারণ হিসেবেই বিবেচিত হয়, যেসকল মোটরবাইকে উচ্চ শব্দের জন্য সাইলেন্সার লাগানো হয় তাদের গতিও থাকে বেপরোয়া,যা সড়ক দুর্ঘটনা অন্যতম কারণ। তাই এসব বিষয়ে এখনই প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল থেকে শহরের প্রধান সড়ক, বাইপাস, বাস টার্মিনাল, বাজার এলাকা ও আবাসিক সড়কগুলোতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিকট শব্দ করা হয়। এতে শিশু, বয়স্ক মানুষ ও অসুস্থ রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। অনেক সময় ভয় পেয়ে যান পথচারীরাও।
এলাকাবাসী জানান, বিজয় দিবসের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিনে এ ধরনের শব্দদূষণ উৎসবের সৌন্দর্য নষ্ট করে। বিশেষ করে পরিবর্তিত ও অবৈধ সাইলেন্সার ব্যবহার করে কিছু মোটরসাইকেল চালক ইচ্ছাকৃতভাবে শব্দ সৃষ্টি করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিকরা বলেন, মোটরসাইকেলের বিকট শব্দ শব্দদূষণের পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনের শামিল। নিয়মিত অভিযান ও আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকায় এ সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। তারা বিজয় দিবসসহ সকল জাতীয় দিবসে এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
উল্লেখ্য, পরিবেশ আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করা দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ খুব কমই দেখা যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, জনসচেতনতা ও আইন প্রয়োগ একসঙ্গে জোরদার করা হলে এ ধরনের জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
পাবনার টিআই (প্রশাসন) জনাব মোঃ সাদাকাতুল বারী সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে আমরা এ বিষয়ে একটি অভিযান পরিচালনা করেছি কিছু সাইলেন্সার বিহীন হলার যুক্ত মোটরসাইকেল আটক করা হয়েছে। তিনি আরো জানান সাইলেন্সের বিহিন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে।