1. infojayjaysomoy@gmail.com : দৈনিক যায়যায় সময় : দৈনিক যায়যায় সময়
  2. info@www.jayjaysomoy.com : দৈনিক যায়যায় সময় :
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নিয়ামতপুরে নিখোঁজ ব্যক্তিকে পরিবারে পৌঁছে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন গ্রাম পুলিশ ধামইরহাট ও পত্নীতলার সাংবাদিকদের সাথে সামসুজ্জোহা খানের মতবিনিময় আওয়ামী লীগ থেকে দুই নেতার পদত্যাগ, ভুল বুঝতে পারার দাবি কালাইয়ে তিনটি খড়ের পালা পুড়ে ভস্মীভূত, তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ মির্জাপুরে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে অন্য বাসের ধাক্কা, নিহত ১ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ স্কাউট শিক্ষক সেলিম রেজা জলঢাকায় ভুয়া আহত দেখিয়ে সরকারি ভাতা গ্রহণের অভিযোগে ইউএনও বরাবর দরখাস্ত ধামইরহাটে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল বরিশালে সেতুর পিলারে ধস জনমনে পারাপারে আতঙ্ক  হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: কালাইয়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

ক্যানসারে আক্রান্ত ও অভাব-অনটনে থমকে যাওয়া এক পরিবারের জীবনযুদ্ধ

গাজীপুর প্রতিনিধি:-
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের বাসন এলাকার ছোট্ট একটি ভাড়া বাসায় মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার অপেক্ষায় দিন কাটছে শাহাজাদী বেগমের। দীর্ঘ দুই বছরের ক্যানসারযুদ্ধে পরাস্ত তিনি এখন শয্যাশায়ী। পাশে রয়েছেন দিনমজুর স্বামী, আর কোলে মাত্র ৩ মাসের শিশুসহ তিন সন্তান।

একসময় স্বামী–স্ত্রী দু’জনের আয়ে চলা সংসার আজ ভেঙে পড়েছে অভাব-অনটনের করাল গ্রাসে। হঠাৎ ধরা পড়া মরণব্যাধি শুধু শরীরকেই ক্ষতবিক্ষত করেনি ছিনিয়ে নিয়েছে চাকরি, আয়-রোজগার আর বাঁচার শেষ আশাটুকুও। অথচ জীবনের কাছে একটু দয়া, একটু সহানুভূতি চেয়েও কিছুই মেলেনি তার ভাগ্যে। দীর্ঘ মাস ঘর ভাড়া বকেয়া পড়ায় মালিকের চোখ রাঙ্গানো সয্য করতে হচ্ছে নিয়মিত। ঘর থেকে বের করে দিলে থাকতে হবে খোলা আকাশের নিচে। শয্যায় পড়ে থাকা শাহাজাদী আজ কোলে থাকা নবজাতক সন্তানসহ পুরো সংসারের দিকে তাকিয়ে অসহায় কান্নায় ভেঙে পড়েন বারবার।

২০ বছর আগে বিয়ে করে শুরু হয়েছিল তাদের নতুন পথচলা। বাবাহীন সংসারে দিনমজুর স্বামীকে নিয়েই লড়াই করে কাটছিলো জীবনের কঠিন দিনগুলো। এরপর পোশাক কারখানার চাকরি কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছিল। ঠিক তখনই জীবনের নির্মমতম আঘাত—দু’বছর আগে তার শরীরে ধরা পড়ে ক্যানসার। অসুস্থ শরীরে যখন টিকে থাকার আশা নিয়ে দরজায় দরজায় ছুটছিলেন, তখনই কারখানা কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করে দেয়। হাজার অনুরোধ–কান্নার ধাক্কাও ভাঙাতে পারেনি কর্তৃপক্ষের হৃদয়। চাকরির ভরসাটুকু হারিয়ে আরও গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যান শাহাজাদী।

চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়, অভাবের কষ্ট বাড়তে থাকে। ৩ মাসের সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বেঁচে থাকার আকুতি জানান শাহাজাদী—যেন অন্তত শিশুটা বাঁচে, বড় দুই সন্তানটাও বাঁচে।

এই সংসারের একমাত্র উপার্জন আজ দিনমজুর স্বামীর হাতে। তার ইনকামই ঠিক করে সেদিন চুলায় আগুন জ্বলবে, নাকি কাটবে অনাহারে। কখনো হয়তো প্রতিবেশীদের সহমর্মিতায় জোটে এক বেলা খাবার।

উৎসবের দিনগুলোতেও আলোর দেখা মেলে না এই পরিবারের ঘরে। ক্ষুধার্ত সন্তানদের “মা, ভাত দাও এই ডাক শুনে শয্যাশায়ী মা কিছুই করতে পারেন না। চোখ ভেজে শুধু কান্নায়। প্রতিটি সকাল যেন নিয়ে আসে শাহাজাদীর পরিবারে নতুন আর্তনাদ, নতুন অসহায়ত্ব।

প্রতিবেশীরা মনে করেন অল্প একটু সহযোগিতা, একটু মানবিক হাত বাড়ানোই ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করতে পারে এই পরিবারটিকে।

জীবন নামের নদী এখনও বয়ে চলেছে… কিন্তু শাহাজাদী বেগম ও তার সন্তানের জীবনের স্রোত থেমে গেছে বহু আগেই। আজ সমাজের দয়া–সহযোগিতা হলেই হয়তো আবার আলো দেখতে পারে এই পরিবার—তিন সন্তানের মুখে ফিরতে পারে ভবিষ্যতের হাসি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সকল লেখা, ছবি ও অন্যান্য কনটেন্ট “দৈনিক যায়যায় সময়”-এর মালিকানাধীন। অনুমতি ব্যতীত কোনো কনটেন্ট কপি, ব্যবহার, বিতরণ বা পুনঃপ্রকাশ করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। যদি কোনো লেখা, ছবি বা তথ্যের উপর আপনার স্বত্বাধিকার দাবি থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। যথাযথ যাচাই-বাছাই ও প্রমাণ উপস্থাপনের ভিত্তিতে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট অপসারণ করা হবে।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট