জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার নুনুজ গ্রামে এক বিরল শারীরিক গঠনের শিশু জন্ম নেওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জন্মের মাত্র একদিন পরই শিশুটির মৃত্যু হয়। দুঃখজনক বিষয় হলো, এর আগেও একই মায়ের গর্ভে একই ধরনের শারীরিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একটি সন্তানের জন্ম হয়েছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নুনুজ গ্রামের বাসিন্দা বাবুল হোসেনের স্ত্রী গত বৃহস্পতিবার রাতে নিজ বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে শিশুটির জন্ম দেন। প্রসবটি কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নয়, বাড়িতেই হয়। জন্মের পরপরই শিশুটির শারীরিক গঠনে চরম অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। শিশুটির চোখ, কান ও নাক ছিল না। শরীরের গঠন ছিল চর্বির মতো নরম এবং বিভিন্ন স্থানে লালচে দাগ দেখা যায়।
খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার চেষ্টা করা হলেও জন্মের একদিন পর শনিবার শিশুটি মারা যায়।
শিশুটির বাবা বাবুল হোসেন জানান, কয়েক বছর আগেও তার স্ত্রীর গর্ভে একই ধরনের শারীরিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একটি সন্তানের জন্ম হয়েছিল, যেটিও মাত্র একদিন বেঁচে ছিল। সে সময় চিকিৎসাগত কোনো বিস্তারিত পরীক্ষা বা পরামর্শ নেওয়া হয়নি। ওই ঘটনার পর তাদের একটি সুস্থ কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। তিন বছর পর পুনরায় সন্তান ধারণ করলে আবারও একই ধরনের অস্বাভাবিক শিশুর জন্ম হয়।
তিনি আরও জানান, এ ধরনের সন্তানের জন্ম হওয়ায় অনেক মানুষ ভয় পায় এবং বিষয়টি তাদের জন্য মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, জেনেটিক ত্রুটি, গর্ভকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি, অপুষ্টি কিংবা নিয়মিত চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার অভাবের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। তারা বলেন, গর্ভধারণের আগে এবং গর্ভকালীন সময়ে নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।