বরিশাল বি.এম. কলেজ রোড, ২০নং ওয়ার্ড ইন্দো-বাংলা ঔষধ কম্পানি সংলগ্ন ও শের-ই-বাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে “মেসার্স মনি ফার্নিচার নামে” একটি দোকান রাস্তার পাশে বিপজ্জনকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার রেখে অবৈধভাবে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের লাইসেন্স, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বা নিরাপত্তা অনুমোদন ছাড়াই খোলা জায়গায় সিলিন্ডার মজুত ও বিক্রি করা হচ্ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, তাছাড়া শের-ই-বাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছেন এবং তাদের জীবন এই গ্যাস সিলিন্ডার কারনে নিরাপত্তা হিনতায় ভুগছে।
প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শত শত শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পথচারী ও যানবাহন চলাচল করে। তার মাঝেই রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা গ্যাস সিলিন্ডারগুলো স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। অনেকেই বলছেন, এভাবে রাখা সিলিন্ডারগুলো যেন একেকটি “চলমান বিস্ফোরক” যেগুলো যেকোনো সময় ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মেসার্স মনি ফার্নিচারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রাস্তার ধারে সিলিন্ডার রেখে বিক্রি করছে। এসব দোকানে নেই কোনো বৈধ লাইসেন্স, নেই ফায়ার সেফটি সরঞ্জাম কিংবা নিরাপদ সংরক্ষণ ব্যবস্থা। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রচলিত গ্যাস সিলিন্ডার আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও সংরক্ষণের জন্য অবশ্যই বিস্ফোরক পরিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন, নির্ধারিত লাইসেন্স এবং অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতে হয়। খোলা জায়গায় বা জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে সিলিন্ডার মজুত ও বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এলপিজি গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য ও বিস্ফোরক। সামান্য লিকেজ, অতিরিক্ত তাপ বা আগুনের সংস্পর্শে এলে মুহূর্তেই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যস্ত সড়কের পাশে এমন অনিরাপদভাবে সিলিন্ডার রাখা হলে তা একাধিক প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা অবিলম্বে অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডার অপসারণ, লাইসেন্সহীন ব্যবসা বন্ধ এবং নিরাপদ বিক্রয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায়, যে কোনো সময় এই অবৈধ কার্যক্রম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।