উপজেলার কাজিরহাট থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সন্তোষপুর বাংলাবাজার ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাজিরহাট বাজারের সংযোগকারী সেতুটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক ভয়ংকর মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো এই সেতুর একটি গুরুত্বপূর্ণ পিলার হঠাৎ খালের তীব্র পানির স্রোতে ধসে পড়ায় দুই পাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বহু বছর আগে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি প্রবল স্রোতের তোড়ে সেতুর একটি পিলার ভেঙে খালের নিচে পড়ে গেলে পুরো কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে করে প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে চলাচলকারী শত শত যানবাহন ও সাধারণ মানুষ মারাত্মক আতঙ্কের মধ্যে পারাপার হচ্ছে।সেতু দিয়ে চলাচলকারী গাড়িচালকরা জানান, পিলার ধসের পর থেকে ভারী যানবাহন নিয়ে সেতুতে ওঠা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এক চালক ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন৷ এখন আমরা জীবন হাতে নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি। যেকোনো সময় সেতু ভেঙে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যদি সেতুটি পুরোপুরি ধসে যায়, তাহলে এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বে।”গ্রামের সাধারণ মানুষের ভাষ্য, সন্তোষপুর ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র ভরসা এই সেতুটি। পিলার ধসে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। দ্রুত মেরামত না হলে কীভাবে চলাচল করবেন—তা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন।
এদিকে সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, আসলি সন্তোষপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহন এই সেতু দিয়েই চলাচল করে। বর্তমানে ছোট যানবাহনগুলোও ভয়ে ভয়ে সেতু পার হচ্ছে। এতে সময় ও পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এলাকাবাসী ও চালকরা বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন—জননিরাপত্তার স্বার্থে জরাজীর্ণ এই সেতুটি দ্রুত ভেঙে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে।