গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রাস্তায় বাস রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও ভয়াবহ যানজটের কারণে সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির অভিযোগে আজমেরী গ্লোরীর দুইটি বাস জব্দ করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে দুই বাসের চালক ও এক সহকারীকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা থেকে বাস দুটি জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, বাস চালক হাসান সরকার (৩২), চালক জীবন হোসেন (৩২) ও বাসের সহকারী মিনহাজ (২৩)।
পুলিশ জানায়, দুপুরে ঢাকা থেকে চন্দ্রাগামী আজমেরী গ্লোরীর দুটি বাস কোনাবাড়ী হয়ে কালিয়াকৈরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে কোনাবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় পৌঁছালে চালকরা ইচ্ছাকৃতভাবে রাস্তার মাঝখানে বাস থামিয়ে রাখেন এবং পেছনের যানবাহনকে ওভারটেক করতে বাধা দেন। এতে করে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, আজমেরী গ্লোরীর বাসগুলোর কারণে কোনাবাড়ী নতুন বাজার, আমবাগ রোডের মাথা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই যানজট লেগে থাকে। বাস চালকরা পেছনের কোনো বাস বা যানবাহনকে পাশ কাটাতে দেয় না এবং অনেক সময় রাস্তার মাঝখানে বাস আড়াআড়ি করে রেখে দেয়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে কোনাবাড়ী থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে জব্দ করা হয় দুটি বাস।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার জালাল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, রাস্তার মাঝখানে বাস রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগ তৈরি করার অপরাধে আজমেরী গ্লোরীর দুইটি বাস জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই বাসের চালক ও এক সহকারীকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ সময় স্থানীয়রা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় কোনাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ ও পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।