1. infojayjaysomoy@gmail.com : দৈনিক যায়যায় সময় : দৈনিক যায়যায় সময়
  2. info@www.jayjaysomoy.com : দৈনিক যায়যায় সময় :
বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নীলফামারীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিহত ১ আহত ২ নিয়ামতপুরে দুর্বৃত্তদের ‘প্রতিহিংসার’ আগুনে পুড়ে ছাই কৃষকের খড়ের গাদা কালাইয়ে সেমাই কারখানায় মোবাইল কোর্ট, ৫ হাজার টাকা জরিমানা ধামইরহাটে রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের প্রতিবাদে ‘মানবসেবা’র ব্যানারে এলাকাবাসীর মানববন্ধন গাজীপুরে পুলিশের উদ্ধার করা ৫৮টি মোবাইল ফোন মালিকদের ফেরত গাজীপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৫ লক্ষ টাকা ৪ হাজার ইয়াবাসহ আটক-১ গাজীপুরে মোবাইলের দোকানে আগুন, প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি কালাইয়ে তেলের মজুদ পরিদর্শন, চটের বস্তার মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বাজার মনিটরিং নিয়ামতপুরে দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত ৪০ হাজার মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট ও ১৮টি ওয়েট মেশিনসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরকিপার আটক

নিয়ামতপুরে দুর্বৃত্তদের ‘প্রতিহিংসার’ আগুনে পুড়ে ছাই কৃষকের খড়ের গাদা

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:-
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

ধানের ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা। প্রতিবছর আমন ও বোরো মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে ধান উৎপাদন হয় এই উপজেলায়। আমন মৌসুমে ধানের পাশাপাশি শুকনো আঁটি খড় পায় কৃষকেরা। এই খড় তাঁরা গাদা করে রাখেন । কেউ সারাবছর ধরে গরুকে খাওয়ান, কেউ বিক্রি করেন। তবে কৃষকদের অভিযোগ।

এই খড়ের গাদায় শ্যেন দৃষ্টি পড়ে দুর্বৃত্তদের। রাতের আঁধারে ‘প্রতিহিংসার’ আগুনে পুড় ছাই হয় খড়ের গাদা। এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো কোনো কৃষকের লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। অনেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকজন কৃষক বলছেন, তাঁদের খড়ের গাদায় আগুন লাগার ধরন দেখে বোঝা যায় এই আগুন ‘শত্রুতামূলকভাবে’ লাগানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে আধপোড়া খড় গবাদিপশু খেতে চায় না। এতে দুশ্চিন্তা আর দুর্ভোগে পড়ে যান তাঁরা। প্রতি বছর আমন ধান মাড়াইয়ের পর ‘আগুন আতঙ্কে’ রাত কাটান।

নিয়ামতপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ০১ জানুয়ারি থেকে ০৯ মার্চ পর্যন্ত উপজেলায় ২০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সবগুলোই খড়ের গাদার অগ্নিকাণ্ড।

গত বছরে সংগঠিত ৬১টি অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে ৫০টি ছিল খড়ের গাদায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এরমধ্যে প্রথম চার মাসেই ঘটে ২৯টি অগ্নিকাণ্ড। সাধারণত এসব অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ‘অজ্ঞাত ব্যক্তি’, মাটির চুলা, বিড়ি-সিগারেটের উচ্ছিষ্ট অংশ, ছাইয়ের আগুন, বৈদ্যুতিক তার, পটকা-আতশবাজি থেকে হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাত একটার দিকে উপজেলার হাজীনগর ইউনিয়নের নন্দীগ্রাম গ্রামে কৃষক আব্দুল হালিমের একটি খড়ের গাদায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর চার বিঘার জমির খড় পুড়ে গেছে।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আব্দুল হালিম বলেন, ঘটনার রাতে তিনি বাড়িতে ছিলেন না। এই সুযোগে ‘শত্রুরা’ তাঁর খড়ের গাদায় আগুন লাগিয়েছে বলে ধারণা করছেন। তাঁর দাবি , অগ্নিকাণ্ডে তাঁর ৩৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে তিনি কোথাও লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানান।

একই রাতে উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে কৃষক আব্দুল মান্নানের দুইটি খড়ের গাদায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর ১০ বিঘার জমির ৮০ হাজার টাকার খড় পুড়ে গেছে। তাঁর ধারণা, এই আগুন ‘শত্রুতামূলকভাবে’ লাগানো হয়েছে। তিনিও কোথাও লিখিত অভিযোগ দেননি।

এছাড়া গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর রাত নয়টার দিকে উপজেলার কানইল ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে সগেন দাসের তিনটি খড়ের গাদায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে তাঁর ৩০ বিঘার খড় পুড়ে যায়। এ অগ্নিকাণ্ডে

তাঁর দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
২৬ ডিসেম্বর ভোরে উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের মাদারীপুর গ্রামে পবেন দাসের ১২ বিঘার একটি খড়ের গাদায় আগুন লাগায় দুর্বৃত্তরা। এতে তাঁর ১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে মর্মে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়ে আবেদন করেছেন।

২৪ ডিসেম্বর রাত নয়টার দিকে উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়নের দাদরইল (চকপাড়া) গ্রামে খড়ের গাদায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মাসুদ রানা নিয়ামতপুর থানায় বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, কে বা কাহারা রাতের আঁধারে খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ২০ বিঘা আমন ক্ষেতের খড় সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।

১৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ী গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা কৃষক সাইদুর রহমান, মিরাজ ও আজাহার আলীর ১৫ বিঘা আমন ধানের খড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে মর্মে ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

এছাড়াও ৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে উপজেলার সালালপুর (দিঘীরপাড়) গ্রামে কৃষক মো. হোসেন আলীর (৫৭) ধানের গাদায় আগুন দেয় দৃর্বৃত্তরা। থানায় লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, রাতের বেলা কে বা কাহারা পূর্ব শত্রুতার জেরে ১১ বিঘার  জমির পাকা ধানের ৪টি পালা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে নষ্ট করে দেয়। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নিয়ামতপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ সাহাদৎ হোসেন বলেন, কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় নিয়ামতপুরে নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত খড়ের গাদার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বেশি ঘটে। সাধারণত এসব অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত মাটির চুলা, বিড়ি-সিগারেটের উচ্ছিষ্ট অংশ, ছাইয়ের আগুন, বৈদ্যুতিক তার, আতশবাজি থেকে হয়। তবে অনেকে মৌখিকভাবে অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে

‘শত্রুতামূলক’ অগ্নিসংযোগের অভিযোগ করেন। তাঁদেরকে থানাতে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেয়া হয়। এছাড়া তিনি আগুনের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান। নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় কোনো খড়ের গাদার অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেলে খোঁজ নেয়া হয়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নাশকতার কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হয়। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সকল লেখা, ছবি ও অন্যান্য কনটেন্ট “দৈনিক যায়যায় সময়”-এর মালিকানাধীন। অনুমতি ব্যতীত কোনো কনটেন্ট কপি, ব্যবহার, বিতরণ বা পুনঃপ্রকাশ করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। যদি কোনো লেখা, ছবি বা তথ্যের উপর আপনার স্বত্বাধিকার দাবি থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। যথাযথ যাচাই-বাছাই ও প্রমাণ উপস্থাপনের ভিত্তিতে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট অপসারণ করা হবে।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট