বরগুনার তালতলীতে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার কথা বলে ৯০ বছর বয়সী পিতার কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ২ একর জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলে নাজমুল ইসলাম রহিমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বৃদ্ধ আব্দুল খালেক হাওলাদার আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
বুধবার (১৪ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত ছেলে নাজমুল ইসলাম (রহিম) হাওলাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে পিতা, ভাই-বোন ও স্বজনরা ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, উপজেলার পূর্ব ঝাড়াখালী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেক হাওলাদারকে গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাঁর ছোট ছেলে নাজমুল ইসলাম রহিম তালতলী বন্দরের তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হাওলাদার বস্ত্রালয় নিয়ে যান। সেখানে ছেলে জানায়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কাপড়ের দোকানে পণ্য তুলতে ব্যাংক থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া প্রয়োজন এবং সে জন্য বাবার জামিনদার হিসেবে স্বাক্ষর দরকার।
তিনি বাবা আব্দুল খালেক হাওলাদার ব্যাংক ঋণের জামিনদার হিসেবে স্বাক্ষর দিতে সম্মতি জানান।
বৃদ্ধ আব্দুল খালেক হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, বয়সজনিত কারণে তিনি ঠিকমতো দেখতে ও শুনতে পান না। এ সুযোগে তাঁর ছেলে বিভিন্ন কাগজে একাধিক স্বাক্ষর ও টিপসই নেয়ার পরে বলেন আমতলী ব্যাংকে যেতে হবে। ষড়যন্ত্র করে তাকে আমতলীর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে গিয়ে জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে।
তিনি বলেন, “প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারিনি। পরে বাড়িতে এসে অন্য সন্তানদের জানালে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, আমার ছোট ছেলে প্রতারণা করে আমার ২ একর জমি নিজের নামে হেবা দলিলে লিখে নিয়েছে।”
এদিকে গত ১ ফেব্রুয়ারি তিনি নিজ জমিতে ইরি ধানের চারা রোপণ করতে গেলে অভিযুক্ত ছেলে বাধা দেন এবং দাবি করেন, জমিটি এখন তার নামে। তখন দলিল দেখানো হলে প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হয় বলে জানান তিনি।
আব্দুল খালেক হাওলাদার আরও বলেন, “আমার চার ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রয়েছে। মোট তিন একর জমির মধ্যে প্রতারণা করে দুই একর নিয়ে নেওয়ায় অন্য সন্তানরা তাদের ন্যায্য উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। জীবনের শেষ বয়সে আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই।”
এ ঘটনায় তিনি আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, শারীরিক দুর্বলতা ও অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে ছেলে প্রতারণার মাধ্যমে জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয়।
স্থানীয়রা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।