কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চলাকালে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ থাকা একটি পরিবারের হামলায় এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার সকালে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ‘এলাকাবাসী ও সুধীসমাজ’-এর উদ্যোগে উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাট গোপালপুর গ্রামের সরকারপাড়া মাদ্রাসা মোড়ে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
তিলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে এলাকার শতাধিক মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসার কুফল সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে প্রচারণা চালান।
অভিযোগ রয়েছে, কর্মসূচি চলাকালে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ থাকা একটি পরিবারের সদস্যরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনের সঙ্গে যুক্ত গোলজার হোসেন (৪৭) রক্তাক্ত জখম ও গুরুতর আহত হন।
আহত গোলজার হোসেন পশ্চিম ছাট গোপালপুর গ্রামের মৃত রফাতউল্যার ছেলে। পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার রাতেই আহত গোলজার হোসেন একই এলাকার নাছির উদ্দিন (৫২) এবং তার তিন ছেলে—রমজান আলী (৩২), হযরত আলী (২৮) ও কফিল উদ্দিনের (২০) বিরুদ্ধে ভূরুঙ্গামারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী আমিনুর, আলম, মাসুদ ও আলতাফ অভিযোগ করে বলেন, ওই পরিবারটি প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর হামলার ঘটনাকে তারা নিন্দনীয় উল্লেখ করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তিলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বলেন, “মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন শেষে ফেরার পথে আমার সামনেই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।