বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ অভিযানে এক চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা, দেশীয় অস্ত্র ও মাদক সেবনের বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ ভোর আনুমানিক ২টা নাগাদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ পদাতিক ব্রিগেডের অধীন ৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উজিরপুর আর্মি ক্যাম্পের একটি চৌকস দল বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়ন এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানটি পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন ৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর এস জিসান জাকি রকি।
অভিযান চলাকালে উক্ত এলাকার দীর্ঘদিনের চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী মো. মাসুদ হাওলাদারকে তার নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে ২৯২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা, দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং মাদক সেবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আটককৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে উজিরপুর ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ছিল এবং এলাকায় সে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের নাম হিসেবে পরিচিত ছিল।
অভিযানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং এতে কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। উদ্ধারকৃত আলামতসমূহ যথাযথভাবে জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উজিরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে ৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়েজ আহমদ, পিএসসি মাদকবিরোধী কার্যক্রমে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কোনো ধরনের আপস করবে না। মাদক সংশ্লিষ্ট যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদক শুধু ব্যক্তি নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি মারাত্মক হুমকি। দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা এবং যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নির্মূল এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে বেসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়মিত সহায়তা করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের বিশেষ অভিযানের ফলে এলাকায় সাধারণ জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।