আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশের মতো কুড়িগ্রাম জেলার রাজনীতিতেও ক্রমেই বাড়ছে তৎপরতা। এরই ধারাবাহিকতায় কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৩টায় রৌমারী উপজেলার ১ নং দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের কাঁচারী মাঠে অনুষ্ঠিত এ জনসভাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক সরবতা লক্ষ্য করা যায়। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও আশপাশের অঞ্চল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জনসভাস্থলে উপস্থিত হন। ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা, যা স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায়।কুড়িগ্রাম-৪ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের অভিযোগ বহন করে আসছে। সীমান্তবর্তী চরাঞ্চল হওয়ায় নদীভাঙন, বন্যা, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা এবং কর্মসংস্থানের সংকট এ অঞ্চলের মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা। স্থানীয়দের মতে, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন খুব একটা চোখে পড়েনি। ফলে এবারের নির্বাচনকে তারা দেখছেন নতুন প্রত্যাশা ও হিসাব-নিকাশের জায়গা হিসেবে।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি ও বৈষম্য থেকে উত্তরণের জন্য ন্যায়ভিত্তিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন রাজনীতির বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ইসলামী রাজনীতি কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের একটি পূর্ণাঙ্গ দর্শন।
তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের মানুষ বছরের পর বছর নদীভাঙন ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছে। চরাঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া এ এলাকার সার্বিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। এসব সমস্যা সমাধানে স্বল্পমেয়াদি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১নং দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি জনাব মোঃ আবুল কালাম আজাদ, বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার রাজনীতির পরিবর্তে জনকল্যাণমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। তিনি বলেন, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া উন্নয়ন টেকসই হয় না এবং সৎ নেতৃত্ব ছাড়া জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়।
রৌমারী উপজেলা জামায়াতের কার্যকরী সদস্য ও মজলিসে শুরা সদস্য এবং রৌমারী কেরামতিয়া ডিগ্রি ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ মোকছেদ আলী তার বক্তব্যে বলেন, একটি এলাকার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত সততা, দায়িত্ববোধ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের জনসভা একদিকে দলীয় সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যম, অন্যদিকে ভোটারদের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরার একটি কৌশল। জামায়াতে ইসলামীর এই জনসভায় উন্নয়ন ও নৈতিক রাজনীতির ওপর জোর দেওয়া হলেও স্থানীয় ভোটারদের কাছে বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখাই শেষ পর্যন্ত বড় প্রশ্ন হয়ে থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের ভোটাররা এবার কেবল স্লোগান বা প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করতে চান না। তারা নেতৃত্বের সততা, অতীত ভূমিকা এবং এলাকার বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সক্ষমতাকেই গুরুত্ব দিতে চান। সে দিক থেকে এই জনসভা ভোটারদের ভাবনায় নতুন করে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
জামায়াতে ইসলামী রৌমারী উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ জনসভা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবক দল দায়িত্ব পালন করে এবং সার্বিকভাবে জনসভা সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
সব মিলিয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে অনুষ্ঠিত এই জনসভা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ও প্রচারণা এই আসনের নির্বাচনী চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তুলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।