গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রেনের ধাক্কায় আব্দুর রাজ্জাক নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। মোবাইল ফোনে কথা বলার একপর্যায়ে ট্রেনের সামনে চলে আসেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে ঢাকা–ময়মনসিংহ রেলপথের শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুর রাজ্জাক (৬০) ময়মনসিংহের মেত্রকোনা জেলার সুসং দুর্গাপুর থানার পাটলি গ্রামের মৃত আদর আলীর ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহের তারাকান্দাগামী অগ্নিবিনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশন এলাকা অতিক্রম করার সময় ওই বৃদ্ধ রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে তিনি লাইনের দিকে চলে আসেন। এসময় ট্রেনের সামনে এলে প্রচন্ড বেগে ধাক্কায় ছিটকে পড়েন তিনি। দ্রুতগতির ট্রেনটি তার ওপর দিয়ে চলে গেলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. নজরুল ইসলাম বলেন,’ওই ব্যক্তি রেল লাইনের পাশে অনেকক্ষণ ধরে অবস্থান করে ফোনে কথা বলছিলেন। ট্রেন আসতে দেখে কয়েকজন তাকে লাইন থেকে সরে যেতে বলে। এক পর্যায়ে তিনি লাইনের বিপদজনক দূরত্বে চলেও গিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রেন কাছাকাছি আসার পর ফের ট্রেনের সামনে চলে গেলে সেটির ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়। পারিবারিক কলহের জেরে এমন হতে পারে। কেননা, মোবাইলে কার সাথে জানি তর্কবির্তক করছিলেন।’
নিহতের স্বজনদের দাবী, বেশ কিছু দিন ধরে মানসিক ভাবে বিকারগস্ত ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। কয়েকদিন আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় থাকতেন তিনি। আজকে হঠাৎ খবর পাই শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনে তিনি মারা গেছেন।
শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শামীমা জাহান জানান, আব্দুর রাজ্জাক নামের ওই ব্যক্তি ট্রেনের ধাক্কায় রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়ে মারা যান। পরে বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়।’
জয়দেবপুর জিআরপি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কাইয়ূম বলেন,” খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ চলমান।