কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে আকস্মিকভাবে ভয়াবহ নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। কয়েকদিন ধরে নদীর প্রবল স্রোত ও তীব্র ভাঙনের কারণে বসতবাড়ি, আবাদি জমি এবং বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
ভাঙনের তীব্রতায় অনেক পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে কিছু পরিবার অস্থায়ীভাবে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিজমি হারানোর শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, হঠাৎ করেই নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এ অবস্থায় ভাঙন রোধে দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নদীতীর সংরক্ষণ ও ভাঙন প্রতিরোধে ৬ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে কাজ শুরু করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক সরেজমিনে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং জিও ব্যাগ স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুঃখ-দুর্দশার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এমপি মোস্তাক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন, যাতে ভাঙনের বিস্তার রোধ করা যায় এবং নতুন করে কোনো বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীরা আশা করছেন, এই জরুরি উদ্যোগের ফলে ভাঙনের তীব্রতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা রক্ষা করতে পারবে। তবে তারা দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভয়াবহ ভাঙনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।