জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আঁওড়া গুচ্ছগ্রামে মসজিদের উন্নয়নের লক্ষ্যে চাষ করা মাছ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ড সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জাকারিয়া হোসেনের নেতৃত্বে অন্তত ২০-২৫ জন লোক মসজিদ কমিটির পুকুর থেকে প্রায় ১০ মণ মাছ তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আঁওড়া গুচ্ছগ্রামের ‘চ্যানরাল’ নামের ওই পুকুরটি (দাগ নং: ৫৮৫) তিন মাস আগে মসজিদ উন্নয়ন তহবিলের জন্য মাছ চাষ শুরু হয়। প্রায় ৫০ হাজার টাকার রুই, মৃগেল, হাঙ্গরী, কাতলা ও সিলভার কার্প প্রজাতির মাছের পোনা ছাড়া হয় সেখানে। নিয়মিত খাবার ও যত্নের মাধ্যমে মাছগুলো বড় হচ্ছিল। কিন্তু বুধবার ভোরে হঠাৎ জাকারিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক জেলে নামিয়ে মাছ ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মসজিদের ইমাম ছানোয়ার হোসেন বলেন,
“ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফিরেই দেখি, খোরশেদ, জাকারিয়া, রিপন, মোজা, ইকবালসহ অনেকে আমাদের পুকুরে মাছ ধরছে। আমরা বাধা দিলেও তারা জোরপূর্বক মাছ তুলে নিয়ে যায়। অন্তত ৪০ হাজার টাকার মাছ লুট হয়েছে।
স্থানীয় নারী শিরিনা আক্তার বলেন,আমার স্বামী সাইদুর রহমানসহ গুচ্ছগ্রামের মুসল্লিরা মসজিদের উন্নয়নের জন্য এ পুকুরে মাছ চাষ করেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কিছু লোক পুকুরটি দখল নিতে চায়। আজ তারা জেলে নামিয়ে সব মাছ ধরে নিয়ে গেছে।
একই অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসী সালমা বেগম, আমিছা বিবি, তাইরুল ইসলাম, ববি বেগমসহ আরও অনেকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘চ্যানরাল পুকুর’টি মূলত একটি সরকারি (ভিপি) পুকুর। ২০২৪ সালে কালাই উপজেলা যুবলীগের তৎকালীন সভাপতি সানোয়ার হোসেন ছানা এটি ইজারা নিয়েছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি পুকুরটি আঁওড়া গুচ্ছগ্রাম জামে মসজিদ কমিটিকে দান করেন। এরপর থেকেই মসজিদ কমিটি পুকুরটির রক্ষণাবেক্ষণ ও মাছ চাষ করে আসছিল।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন,পুকুরটির ডিসিআরসহ সব বৈধ কাগজপত্র আমাদের কাছে আছে। এটি মসজিদের পবিত্র সম্পদ। গ্রামের মানুষ মিলে আমরা চাষ করছিলাম। অথচ বুধবার সকালে জাকারিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক ১০-১৫ মণ মাছ জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গেছে। আমরা এর ন্যায়বিচার চাই।অভিযুক্ত জাকারিয়া হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন,
“ঘটনাটি আমরা জেনেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কালাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেকার রহমান বলেন,
“ওই পুকুরটি একটি ভিপি পুকুর, যা ১৪৩১ থেকে ১৪৩৩ সাল পর্যন্ত সানোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তির নামে ইজারা দেওয়া আছে। আইন অনুযায়ী তিনি এটি অন্য কাউকে হস্তান্তর করতে পারেন না। তবে পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।”
এ ঘটনায় পুরো গুচ্ছগ্রামে নেমে এসেছে চরম হতাশা। স্থানীয়দের দাবি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বাধাগ্রস্তকারী ও মসজিদের পুকুরের মাছ লুটে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসন যেন দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।