বরিশালে আ’লীগ নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর শরীফ আনিচুর রহমানের বিরুদ্ধে বায়নাকৃত জমি রেজিস্ট্রি না দিয়ে টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)’র ২৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শরীফ আনিচুর রহমান জমি বিক্রির কথা বলে অভিনব কায়দায় বায়না বাবদ লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি না দিয়ে হায়রানি করে আসছে স্থানীয় ওমর ফারুক হাওলাদার কে। স্বত্ব দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সাবেক বিতর্কিত কাউন্সিলর ও স্থানীয় আ’লীগের এই নেতার বিরুদ্ধে। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে আ’লীগ সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকাটিতে অবৈধ ভূমিদস্যুতা, চড়া সুদে দাদন ব্যবসা এবং নিরীহ মানুষের সম্পদ আত্মসাতের সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ, বায়নাকৃত জমি চুক্তি অনুযায়ী রেজিস্ট্রি না দিয়ে উল্টো জমি গ্রাসের পাঁয়তারা করায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী মো: ওমর ফারুক হাওলাদার। উক্ত জমির সাফ কবলা দলিল অথবা বায়না কৃত টাকা ও জমিতে ভরাট ও উন্নয়নমূলক কাজের খরচসহ সমুদয় অর্থ ফেরত পেতে আইনজীবীর মাধ্যমে আনিচুর রহমানকে কড়া লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল জেলার কোতোয়ালী থানাধীন জাগুয়া মৌজার এস.এ ৯২৪/৯২৮ খতিয়ানের (নতুন খতিয়ান ১৭৯২) হাল ৩৯৭ নম্বর দাগের মোট ১১ শতাংশ জমি বিক্রির জন্য সম্প্রীতি মো: ওমর ফারুক হাওলাদারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন শরীফ মো: আনিচুর রহমানএবং তাঁর সহযোগী মো: খালেক হাওলাদার। প্রতি শতাংশ জমির দাম ৬০ হাজার টাকা হারে সর্বমোট ৬ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা বাজারমূল্য নির্ধারণ করে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে লিখিত বায়না চুক্তি সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, ১নং নোটিশ গ্রহীতা শরীফ আনিচুর রহমান নগদ দুই লক্ষ টাকা এবং ২ নং নোটিশ গ্রহীতা খালেক হাওলাদার চার লক্ষ ষাট হাজার টাকা পর্যায়ক্রমে নগদ গ্রহণ করেন। জমির মূল্য পুরো টাকা পকেটে পুরে নেয়ার পর থেকেই শুরু হয় আনিচুর রহমান ও খালেক হাওলাদারের কুখ্যাত প্রতারণা ও কালক্ষেপণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্রেতা ওমর ফারুক হাওলাদার জমি রেজিস্ট্রি চেয়ে তাগাদা দিলেও দাতাদ্বয় তালবাহানা ও হুমকি-ধমকি দিয়ে উক্ত জমি আত্মসাৎ এর চেষ্টায় ঘোরাতে থাকেন।
এ দিকে বিক্রিত জমিটি নিচু থাকায় ক্রেতা ওমর ফারুক মাটি ভরাট সহ উন্নয়ন কাজে আরো তিন লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করেন। এতে জমিটির বাজারমূল্য ও উপযোগিতা বৃদ্ধি পায়। জমিটির উন্নয়ন সম্পন্ন হতেই আনিচুর রহমান ও খালেকের কুনজর পড়ে। তারা ক্রেতাকে জমি রেজিস্ট্রি না দিয়ে উল্টো সম্পূর্ণ জমিটি আত্মসাৎ করার অপকৌশল শুরু করেন।
ভুক্তভোগী মো: ওমর ফারুক ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আনিচুর রহমান ও খালেক বিগত আ”লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় ক্যাডার বাহিনী ও রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। জমি বিক্রি করার কথা বলে জমির পুরো মূল্য ৬ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা নিলেন।এছাড়া ৩ লক্ষাধিক টাকা খরচ করে মাটি ভরাট করার পর এখন জমিও দিচ্ছেন না, টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। তারা মূলত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমিটি গিলে খাওয়ার চেষ্টা করছে। এছাড়া তারা এলাকার কুখ্যাত ভূমিদস্যু। আমি ন্যায়বিচারের জন্য আইনগত নোটিশ দিয়েছি।
তথ্যানুসন্ধানে, শরীফ আনিচুর রহমানের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা, সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখল এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নতুন নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা মেয়াদে ওয়ার্ডের নিয়ন্ত্রণ রেখে তিনি রূপাতলী, ধান গবেষণা রোড এবং জাগুয়া এলাকায় একের পর এক সাধারণ মানুষের জমির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এবং বায়না করে পরবর্তীতে দলিল না দিয়ে জমি জবরদখল করার চক্র সক্রিয় রেখেছিলেন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করার এই ঘটনায় জাগুয়া ও রূপাতলী এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা এই চিহ্নিত ভূমিদস্যুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগী ওমর ফারুকের পাওনা টাকা ও জমির দ্রুত আইনি সুরাহর দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে মোঃ খালেক হাওলাদার এলাকায় ডিগ্রি খালেক নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের জমি ভূয়া ডিগ্রী ও কাগজপত্র তৈরি করে মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে আনিসুর রহমান শরীফকে একাধিক বার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। খালেক হাওলাদার বিক্রিত জমির ব্যাপারে অকপটে স্বীকার করে বলেন, ফারুকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। আনিচ শরীফের সাথে আলোচনা করে ফারুককে জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়া হবে।