নীলফামারীর জলঢাকায় বুড়ি তিস্তা নদী খনন করে সেচ সুবিধা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে জলঢাকা–ডিমলা সড়কের কালিগঞ্জ বাজার এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে তারা সড়ক অবরোধে অংশ নেন।
এতে প্রায় তিন ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন শফিক হোসেন, জামাল, আরশাদ ইসলাম, দুলাল হোসেন, জয়নাল আলী, ফরিদ খান, সাব্বির হোসেনসহ আরও অনেকে।
কৃষকেরা জানান, প্রায় ২২ বছর ধরে তারা সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বুড়ি তিস্তা নদী খনন না হওয়ায় সেচ ক্যানেলগুলোতে পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কালিগঞ্জ মৌজা, গোলনা, বালাপাড়া, মীরগঞ্জ, খেরকাটি, ডিমলা সদর ইউনিয়ন, নাউতারা ও পচারহাট মৌজাসহ মোট ৭টি ইউনিয়নে তীব্র সেচ সংকট দেখা দিয়েছে।
বক্তারা দাবি করেন, নদী খনন না হওয়ায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহার করে সেচ দিতে হচ্ছে, এতে উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সেচ ক্যানেলের মাধ্যমে বিঘাপ্রতি মাত্র ২০০ টাকায় সেচ দেওয়া গেলেও বর্তমানে ক্যানেলে পানি না থাকায় তাদের ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। দ্রুত বুড়ি তিস্তা খননের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘বুড়ি তিস্তার জলাধার খনন প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাদের নিজস্ব স্বার্থ আদায়ের জন্য কাজে বাধা দিচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর অতিরিক্ত ২৬ লাখ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন হবে, প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি কীভাবে দ্রুত শুরু করা যায় সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।