1. infojayjaysomoy@gmail.com : দৈনিক যায়যায় সময় : দৈনিক যায়যায় সময়
  2. info@www.jayjaysomoy.com : দৈনিক যায়যায় সময় :
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০২:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পাবনায় ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত দুই ভবনের নিলাম স্থগিত পাবনায় পদ্মা নদী থেকে বস্তাবন্দি কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার তীব্র গরমে অতিষ্ঠ নীলফামারীর জনজীবন হাসপাতালে রোগীর চাপ ধামইরহাটে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও তহবিল হতে ঈদ উপহার বিতরণ পূর্ব শত্রুতার জেরে গাজীপুরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ নিয়ামতপুরে ১৫ লিটার চোলাই মদসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার নিয়ামতপুরে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার মঠবাড়ীয়ায় জোড়া খুনে আসল রহস্য উম্মোচন বরিশাল শেরেই বাংলা হাসপাতলে  চিকিৎসা পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, ক্ষোভে ফুঁসছে স্বজনরা রংপুরগামী মেইল বাস সার্ভিস বন্ধের প্রতিবাদে ভূরুঙ্গামারীতে সড়ক অবরোধ

পাবনায় ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত দুই ভবনের নিলাম স্থগিত

পাবনা জেলা প্রতিনিধি:-
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

পাবনা মানসিক হাসপাতাল এলাকায় ঠাকুর শ্রী শ্রী অনূকুল চন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত বিশ্ব বিজ্ঞান কেন্দ্র ও মাতৃ মন্দির রক্ষার দাবি জানিয়েছে সৎসঙ্গ বাংলাদেশ। সম্প্রতি পাবনা মানসিক হাসপাতালের সম্প্রসারণ ও আধুনিক ইনস্টিটিউট নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই ভবন দুটি নিলামে বিক্রি ও ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেয় গণপূর্ত বিভাগ।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে সৎসঙ্গ বাংলাদেশের কর্মীরা এই দুটি ভবন নিলাম বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। পরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নিলাম কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করে গণপূর্ত বিভাগ। সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সহ সাধারণ সম্পাদক সুব্রত আদিত্য জানান, সম্প্রতি হেমায়েতপুরে মানসিক হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত ঠাকুরের এই ঐতিহাসিক ও ভগ্নপ্রায় স্থাপনাগুলো মঙ্গলবার টেন্ডার বা নিলাম আহ্বানের মাধ্যমে অপসারণ বা ভূমিস্যাৎ করার একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এই খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে থাকা ঠাকুরের অনুসারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়। আমরা চাই, এই অনন্য ঐতিহাসিক ঐতিহ্যগুলোকে ভেঙে না ফেলে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে সংস্কার ও সংরক্ষণ করা হোক। সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক নিখিল মজুমদার বলেন, সারা পৃথিবীতে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের অন্তত ১০ কোটি ভক্ত আছেন। তারা ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত এই বিশ্ব বিজ্ঞান কেন্দ্রে তীর্থ ভ্রমনে আসেন। এগুলো সৎসঙ্গ বাংলাদেশের মাধ্যমে সংস্কার করে ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত করা হলে ধর্মানুভূতিকে সম্মান দেয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারবে।

এদিকে, সৎসঙ্গ বাংলাদেশের দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মঙ্গলবার সকালে মানসিক হাসপাতাল এলাকার ভগ্নপ্রায় বিশ্ব বিজ্ঞান কেন্দ্র ও মাতৃমন্দির সরেজমিন পরিদর্শন করে গণপূর্ত বিভাগ ও মানসিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক ডা. শাফকাত ওয়াহিদ ও গণপূর্ত বিভাগ পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবিরসহ কর্মকর্তারা এ সময় সৎসঙ্গ বাংলাদেশের কর্মীদের বক্তব্য ও দাবি শোনেন। ধর্মানুভূতি ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় নিলাম কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করে গণপূর্ত বিভাগ।

জানতে চাইলে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবির বলেন, পাবনা মানসিক হাসপাতালে বিশ্বমানের আধুনিক ইনস্টিটিউট প্রকল্পের জন্য পুরাতন পরিত্যাক্ত ভবন অপসারণে নিলাম কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। মোট ১৩টি পরিত্যক্ত ভবন নিলামের জন্য দরপত্র আহ্বান শুরু হবে বুধবার (৩ জুন)। এতে সৎসঙ্গীদের দাবিকৃত দুটি ভবনও ছিলো। আমরা আপাতত এই দুটি ভবন নিলাম স্থগিত করেছি। পরবর্তীতে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করায় জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ধৃতব্রত আদিত্য। তিনি বলেন, আমাদের ধর্মানুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে নিলাম বন্ধ করায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। একইসঙ্গে সরকার যেন এই প্রাচীন স্থাপনাগুলোর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব অনুধাবন করে এগুলোকে টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যাতে আগামী প্রজন্ম ঠাকুরের বিজ্ঞানচেতনা ও মানবকল্যাণের এই গৌরবময় ইতিহাসকে সচক্ষে দেখার সুযোগ পায়।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর ও ধর্মীয় গুরত্বের কারণে নিলাম কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। সৎসঙ্গীদের সাথে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মানবধর্মের দীক্ষায় দীক্ষিত ধর্ম প্রচারক শ্রী শ্রী ঠাকুর অনূকুল চন্দ্র পাবনার হিমায়েতপুরে ১৮৮৮ জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২৯ সালে পাবনায় সৎসঙ্গ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ ও বিজ্ঞানমনস্ক জীবনযাপনের জন্য তিনি সেখানে গড়ে তুলেছিলেন নানা প্রতিষ্ঠান। যার মধ্যে অন্যতম ছিল তাঁর মায়ের স্মৃতিরক্ষার্থে নির্মিত মাতৃ মন্দির এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে বিশ্ব বিজ্ঞান কেন্দ্র। ১৯৪৬ সালে ঠাকুর স্বপরিবারে ভারতের দেওঘরে চলে যাওয়ার পর এখানকার অনেক স্থাপনা অযত্নে ও কালক্রমে পাবনা মানসিক হাসপাতাল চত্বরের ভেতরে পড়ে যায়। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত ও অনুরাগীর কাছে এই স্থানটি অত্যন্ত পবিত্র এবং গভীর আবেগের এক তীর্থভূমি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সকল লেখা, ছবি ও অন্যান্য কনটেন্ট “দৈনিক যায়যায় সময়”-এর মালিকানাধীন। অনুমতি ব্যতীত কোনো কনটেন্ট কপি, ব্যবহার, বিতরণ বা পুনঃপ্রকাশ করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। যদি কোনো লেখা, ছবি বা তথ্যের উপর আপনার স্বত্বাধিকার দাবি থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। যথাযথ যাচাই-বাছাই ও প্রমাণ উপস্থাপনের ভিত্তিতে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট অপসারণ করা হবে।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট