ভোলার মনপুরায় মালদ্বীপে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, নির্যাতন ও মানবপাচারের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কয়েকজন প্রবাসী। তারা অভিযুক্ত হিসেবে উপজেলার এক ব্যক্তি জাকির ও তার পিতা জাফরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
বুধবার মনপুরায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, মালদ্বীপে ভালো চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হলেও সেখানে নিয়ে প্রতিশ্রুত চাকরি দেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্ন ধরনের শ্রমের কাজে বাধ্য করা হয় এবং প্রতিবাদ করলে মারধরের শিকার হতে হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা হলেন হাজীরহাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ইউনুস (২৭), মো. জামাল (৩২), মো. রাসেল (২৩) এবং কলাতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আকবর (২৯)। তাদের দাবি, মালদ্বীপে পাঠানোর নামে অভিযুক্ত জাকির ও তার পিতা জাফর তাদের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন।
ভুক্তভোগী মো. ইউনুস বলেন, তাকে মালদ্বীপে একটি রেস্টুরেন্টে চাকরির আশ্বাস দিয়ে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর প্রথমে একটি ছোট চায়ের দোকানে রাখা হলেও পরে তাকে কৃষি কাজে নিয়োজিত করা হয়। প্রতিশ্রুত চাকরির কথা বললে এক মাস অপেক্ষা করতে বলা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে তাকে পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয়নি এবং বেতন চাইলে জাকিরের সহযোগীরা তাকে মারধর করে। প্রায় পাঁচ মাস দুর্বিষহ অবস্থায় থাকার পর পরিবারের কাছ থেকে টাকা এনে দেশে ফিরে আসেন তিনি।
মো. জামাল জানান, তাকে রাজমিস্ত্রির কাজ দেওয়ার কথা বলে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মালদ্বীপে নেওয়ার পর বন পরিষ্কারের কাজে লাগানো হয়। দুই মাস কাজ করার পর বেতন চাইলে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে কয়েকজন মিলে মারধর করে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশে থাকা তার স্ত্রী বিষয়টি জানালে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। শেষ পর্যন্ত কোনো বেতন না দিয়েই তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
অপর ভুক্তভোগী মো. আকবর হোসেন বলেন, মালদ্বীপে রেস্টুরেন্টের চাকরির আশ্বাসে তিনি মোট ৫ লাখ টাকা প্রদান করেন। সেখানে গিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির অধীনে অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হন। পর্যাপ্ত খাবার ও বেতন না পাওয়ার পাশাপাশি প্রতিবাদ করলে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
মো. রাসেলও একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, তিনিও ৫ লাখ টাকা প্রদান করার পর প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা আরও জানান, গত ১ জানুয়ারি তারা ভুইয়ারহাট বাজারে অভিযুক্ত জাফরের সঙ্গে দেখা করে তাদের পাওনা টাকা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কথা বলতে গেলে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে ওই ঘটনার জেরে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হয় বলে তারা অভিযোগ করেন। এ মামলায় রাসেলকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের শিকার হয়েছেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাকির ও তার পিতা জাফরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।