গাজীপুরের কাশিমপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় কয়েকজন নেতা আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জনতা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও যোগাযোগ বিষয় সম্পাদক, সাবেক ৫নং ওয়ার্ডের ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আজহারুল ইসলাম, সাবেক কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ইমারত হোসেন এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের যুবনেতা শামীম আল মামুন। অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার রাতে তারা একটি জমি নিয়ে মীমাংসায় বসেছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের কয়েকজন হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হয়ে হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে ইমারত হোসেনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত হন। আজহারুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন আহত হন। তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পালানোর সময় এলাকাবাসী বিএনপির নব্য কর্মী আসাদুলসহ কয়েকজনকে আটক করে উত্তম মাধ্যম দিয়ে ছেড়ে দেয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শরীফ, মজনু, হাবিবুল্লাহ, আসাদুল, রুবেল, মোতালেব, আশিক, ট্রাকচালক বাতেন, হারুন, ছালাম, গ্রাম্য চিকিৎসক শওকত ও ওসমানসহ কয়েকজন তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। শনিবারের ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে তারা অভিযোগ করেন।
এদিকে, ঘটনার পর প্রতিপক্ষ নিজেদের বিএনপির নেতা–কর্মী পরিচয় দিয়ে আজহারুল ইসলামদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
ইঞ্জিনিয়ার আজহারুল ইসলাম বলেন, তিনি ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ৫ আগস্টের পর কিছু লোক হঠাৎ করে নিজেদের বিএনপির কর্মী দাবি করে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তার তীব্র নিন্দা জানাই। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।