তেলের সংকট ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রামের রৌমারী-রাজিবপুর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মহাসড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। পরে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) ভোররাতে চর রাজিবপুর থানাধীন শিবেরডাঙ্গী বাজার এলাকায় পেট্রোলের জন্য অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেল চালকরা একটি ব্যাটারিচালিত অটোতে টিনের ড্রাম বহন করতে দেখে সন্দেহ করেন। পরে সায়েদাবাদ বাজার সংলগ্ন এলাকায় অটোটি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চালক জানান, ড্রামে প্রায় ২২৫ লিটার পেট্রোল রয়েছে, যা দেওয়ানগঞ্জের কদমতলা বাজার থেকে আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাদের অভিযোগ, এলাকায় তেলের তীব্র সংকট থাকা সত্ত্বেও চোরাইপথে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। একপর্যায়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে মোটরসাইকেল চালকরা অটোসহ তেলের ড্রাম জব্দ করে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে নিয়ে রাখেন।
এরপর একটি ট্যাংক লরি শিবেরডাঙ্গী এলাকায় পৌঁছালে চালকের কাছে চালানপত্র দেখতে চাওয়া হয়। তিনি বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরই জেরে সকাল সাড়ে ৫টার দিকে রৌমারী-রাজিবপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে চর রাজিবপুর থানা পুলিশ, রৌমারী থানা পুলিশ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রায় সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জব্দকৃত ২২৫ লিটার পেট্রোল সরকার নির্ধারিত প্রতি লিটার ১১৮ টাকা দরে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এছাড়া পেট্রোলিয়াম আইনের আওতায় মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ ফারুক আহাম্মেদকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।