গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে অস্ত্রের মুখে এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে (ইমামের মেয়ে) বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রথমবার অপহরণের পর উদ্ধারের রেশ কাটতে না কাটতেই সালিশি বৈঠকের মধ্যে দ্বিতীয় দফা অপহরণের শিকার হয় ওই ছাত্রী। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার আবিদ (২১) নামে এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মাওনা ফায়ার সার্ভিস এলাকা থেকে আবিদ ও তার সহযোগীরা তাকে প্রথমবার তুলে নিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হলেও ওই দিন বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিয়ে গ্রামে সালিশ চলাকালে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
অভিযোগ উঠেছে, সালিশ চলাকালেই আবিদ ও তার ১০-১৫ জন সহযোগী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের দরজা ভেঙে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে এবং সকলের সামনে থেকে ওই ছাত্রীকে পুনরায় জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
এই সময় বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
নিখোঁজ ছাত্রীর বাবা আক্ষেপ করে বলেন, ‘সালিশের সময় প্রশাসনের উপস্থিতির আগেই তারা অস্ত্রের মুখে আমার মেয়েকে দ্বিতীয়বার নিয়ে গেল। দুই দিন পার হয়ে গেল, এখনো আমার মেয়ের কোনো খোঁজ পাইনি।
ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হলেও পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অপহরণকারীরা সটকে পড়ে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেছেন। তারা অপহৃতাকে উদ্ধারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেও এখন পর্যন্ত মূল হোতাকে ধরা সম্ভব হয়নি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির আহমেদ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপহৃতা ছাত্রীকে উদ্ধার এবং মূল আসামি আবিদকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্ক কাজ করছে।