লাল মাটির বুকে গড়ে ওঠা এই বনভূমি যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস। নগর জীবনের কোলাহল পেছনে ফেলে এখানে রয়েছে প্রশান্তির ছোঁয়া, সবুজের স্নিগ্ধ আলিঙ্গন। দর্শনর্থীরা এখানে এসে প্রাণ ভরে বিশুদ্ধ অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারলেও বেশ কিছু অব্যবস্থাপনার কারণে দর্শক হারাচ্ছেন ঐতিহ্যবাহী এ পার্কটি।পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী এ পার্কটি সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে দর্শনার্থী বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানালেন কর্তৃপক্ষ।
স্বাধীনতা যুদ্ধের সূতিকাগার রাজা-গাজীদের স্মৃতি ধন্য জেলা গাজীপুর। রাজধানীর খুব কাছেই অক্সিজেনের ভান্ডার খ্যাত এ জেলা ভরপুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে। ইট পাথরের নগরী থেকে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পৃথিবীর অন্যান্য জাতীয় উদ্যানের আদলে এ জেলাতে সরকারী উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে নানারকম গাছ-গাছালি ও পশু-পাখির প্রাণবৈচিত্র্যের এক সমৃদ্ধ ভান্ডার ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান।
গজারি গাছের আধিক্যের কারণে ‘ভাওয়ালের গজারির গড়’ নামেও পরিচিত এই বনভূমি।
খেঁকশিয়াল, বেজি, কাঠবিড়ালী, গুঁইসাপসহ নানা বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে এখানে। গাছের ফাঁকে ফাঁকে দৌড়ে বেড়ায় বানর, আর আকাশজুড়ে শোনা যায় নানা প্রজাতির পাখির ডাক। কোথাও বা দেখা মেলে শান্ত স্বভাবের হনুমানের।
প্রাণ ভরে নিঃশ্বাসের পাশাপাশি পিকনিক স্পট, কটেজ, রেস্টহাউস, ওয়াচ টাওয়ার, জলাশয়ে নৌকাভ্রমণ পর্যটকদের আনে বাড়তি আনন্দ।
তবে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার, ওয়াসরুম ও জলাশয়ের লেকসহ নোংরা বেশ কিছু স্থাপনার সংস্কারের দাবী দর্শনার্থীদের।
পুরাতন স্থাপনা ও জিনিসপত্র নষ্ট, কিছু ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করে দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য এসব স্থাপনার সংস্কারের পাশাপাশি সৌন্দর্য বর্ধনে সাধারণ দর্শনার্থী বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানালেন কর্তৃপক্ষ।
১২,৫০০ একর এলাকা জুড়ে শাল, গজারি, বহেড়া, আমলকি, বটসহ প্রায় ২২১ প্রজাতির গাছপালা এবং
৬ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ১০ প্রজাতির উভচর ও ৩৯ প্রজাতির পাখিসহ
৬৪ প্রজাতির প্রাণী এই বনের প্রাণ।