নওগাঁর নিয়ামতপুরের বাহাদুরপুর গ্রামে গত সোমবার দিবাগত রাতে একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২) তাঁর স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং মেয়ে সাদিয়া আক্তার (৩)। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে গত বুধবার হাবিবুরের নিজ বাড়ির উঠানে তাদের কবর দেওয়া হয়। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) জুম্মার নামাজের পর নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন গ্রামবাসীকে আহ্বান জানান চারজনের কবর জিয়ারতের। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে গ্রামবাসী জুম্মার নামাজের পর নিহতদের কবর জিয়ারত করেন। তবে কবর জিয়ারতের সময় নিহত হাবিবুর রহমানের পিতা বা বোনদেরকে দেখা যায়নি।
কবর জিয়ারত শেষে পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমি ধৈর্য ধারণ করতে পারছি না। আমার ছেলের মতো জামাই ও মেয়েকে তারা সম্পত্তির লোভে গলা কেটে হত্যা করেছে। ছাড়েনি তিন বছরের নাতনি ও ৯ বছরের নাতিকে। ঘাতকদের ফাঁসি হলে হয়তো তাদের আত্মা শান্তি পাবে।’
বাহাদুরপুর গ্রামের আলামিন বলেন, ‘গ্রামের সকলেই একটা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এমন নিঃসংশ হত্যাকান্ডে যেন না ঘটে সেজন্য তাদের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।’
গত সোমবার গভীর রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয় পুলিশ। পরদিন বুধবার বিকেলে চারজনকে নিজ বাড়ির উঠানে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ দ্রুতই খুনের রহস্য উদঘাটন করে। হাবিবুরের ভাগিনা সবুজ রানা(২৫), আরেক ভাগিনা শাহিন আলম(৩৫) ও ভগ্নিপতি শহিদুল মন্ডল (৫০) এ হত্যাকান্ড অংশ নেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ড ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করে।
আদালতে সবুজ রানা জবানবন্দিতে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা স্বীকার করে।
গত বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) চাঁদ আলী আদালতে অপর দুই আসামি শাহিন আলম ও শহিদুল মন্ডলের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের দুই দিনের রিমান্ড আবেদন মন্জুর করে।