রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র: ফুয়েল লোডিং ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প Rooppur Nuclear Power Plant-এ ২৮ তারিখের ফুয়েল লোডিং কার্যক্রমকে ঘিরে এখন চলছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও কঠোর প্রস্তুতি।
২৭ তারিখ থেকেই পুরো প্রকল্প এলাকায় সেনাবাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আর নিরাপত্তা বলয় দৃশ্যমান। চুল্লি এলাকা ও সংলগ্ন জোনে একাধিক টহল ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। ভেতরে প্রবেশে প্যান্স কার্ড যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং “গ্রিন গেট” এলাকায় চলছে কঠোর তল্লাশি।
নিরাপত্তাজনিত কারণে সাধারণ কর্মীদের জন্য চুল্লি-সংলগ্ন এলাকায় প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়া হয়েছে।
দাহ্য বা ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু যেমন সিগারেট, লাইটারসহ যেকোনো সামগ্রী নিয়ে প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, ফুয়েল লোডিং উপলক্ষে উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতি এবং ভার্চুয়ালি আন্তর্জাতিক সংযোগের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে, যার মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুক্ত হওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে আজ মঙ্গলবার ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
আশা করা হচ্ছে, প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আগামী আগস্ট মাসেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।
এখন পুরো দেশ তাকিয়ে আছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের দিকে বাংলাদেশের জ্বালানি ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর তিনটায় এই কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে প্রকল্প এলাকায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
এতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেনের।
এর আগে, পাবনার ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর তীরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর ইউনিট-১-এর ডিজাইন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লাইসেন্স পাওয়ার পর ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর প্রকল্পের মূল নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কাজ শেষে চলতি মাসের ১৬ তারিখে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স দেয়। এটি সফল হলে প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।