ভোলার মনপুরা উপজেলায় বেশি দামে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন গ্রাহকরা। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সোলার মিনিগ্রিড বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন।
মঙ্গলবার (দুপুর সাড়ে ১২টা) উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রামে অবস্থিত ওয়েস্টার্ন রিনিউএবল এনার্জি পরিচালিত সোলার মিনিগ্রিড বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভের আগে গ্রাহকরা কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত প্রায় ছয় মাস ধরে দিনে গড়ে মাত্র দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ৩০ টাকা হারে বিল পরিশোধের পাশাপাশি মাস শেষে সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাটও দিতে হচ্ছে। এত বেশি খরচের পরও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ায় তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গ্রাহক আজাদ খলিফা, জসিম মিঝি ও ফরহাদসহ আরও অনেকে জানান, “আমরা বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনেও ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারছি না। দিনে মাত্র দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিয়ে বাকিটা সময় অন্ধকারে থাকতে হয়। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের দুর্ভোগ আরও বাড়ে।” তারা দ্রুত ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
একই ধরনের অভিযোগ করেন সিরাজগঞ্জ বাজার, কোড়ালিয়া বাজার ও জনতা বাজারের ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তাদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দোকান খোলা রাখলেও বিদ্যুৎ না থাকায় ক্রেতা কমে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
এদিকে শিক্ষার্থীদের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। সাকুচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সাকুচিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা কুপি ও হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে এবং পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়েছে। সোলার মিনিগ্রিড কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে জেনারেটর চালু করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না।” তিনি আরও জানান, গ্রাহকদের দাবিগুলো যৌক্তিক এবং বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ এই ব্যাখ্যার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়। মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আবু মুছা বলেন, “বিদ্যুৎ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। আমরা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জ্বালানি সংকটের অজুহাত দেখাচ্ছে, তবে আমাদের জানা মতে মনপুরায় বর্তমানে জ্বালানি সংকট নেই।” তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় হয়। মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফরিদ উদ্দিন ভূইয়া জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই বিদ্যুৎ সংকট তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। তারা দ্রুত স্থায়ী সমাধান চান এবং ন্যায্য মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।