টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে বোরো ধানসহ আমের মুকুল ও বিভিন্ন সবজি ক্ষেত নষ্ট হওয়ার অভিযোগে কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ক্ষতিপূরণের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে প্রায় ৩০০ জন কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে জানা যায়, গত সোমবার কোট বহুরিয়া এলাকার ৩ থেকে ৪টি ইটভাটা থেকে হঠাৎ বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়। এতে আশপাশের বিস্তীর্ণ জমির ধানগাছ পুড়ে যায়। কৃষকদের দাবি, অন্তত ১৫০ বিঘা জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে অংশ নেওয়া কৃষকরা মন্দিরা পাড়া, কোট বহুরিয়া, বুধির পাড়া ও ভাউড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব ইটভাটা পরিবেশবিধি উপেক্ষা করে পরিচালিত হচ্ছে। মাঝেমধ্যে অতিরিক্ত ধোঁয়া ও গ্যাস নির্গমনের কারণে ফসল ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছিল।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভাষ্য, হঠাৎ নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে ধানগাছের পাতা ঝলসে যায়, গাছ কুঁকড়ে শুকিয়ে পড়ে এবং পুরো মৌসুমের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। শুধু বোরো ধানই নয়, বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে আমের মুকুল ঝরে পড়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্ষেত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একাধিক ফসলের ক্ষতি হওয়ায় তাদের লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়ে গেছে।
কৃষকরা জানান, একই মৌসুমে ধান, আম ও সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন, ফলে দ্রুত ক্ষতিপূরণ না পেলে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমান হাবীব জানান, উপজেলা কৃষি অফিসারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা খাতুন বলেন, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তাকে সরেজমিনে পাঠানো হয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয়দের মতে, কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় দূষণকারী ইটভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।