পাবনা শহরের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় সাধারণ কোমল পানীয় ও মিনারেল ওয়াটারের বোতলে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাথরুম পরিষ্কারের অ্যাসিড (হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড) বাজারজাতকরণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া এই ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্যাকেজিং ও রিফিলিংয়ের কাজ চলায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
পাবনা শহরের আবাসিক এলাকায় বোতলজাত হচ্ছে ‘মরনঘাতী’ অ্যাসিড: চরম ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য, যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
ঘনবসতিপূর্ণ ও আবাসিক এলাকাগুলোতে কোনো রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে টয়লেট ক্লিনার বা বাথরুমের অ্যাসিড (মিউরিয়াটিক/হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড) বোতলজাতকরণের কাজ।
আর এই প্যাকেজিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে কোমল পানীয় ও মিনারেল ওয়াটারের ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্য বা গোপনে চলা এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসার কারণে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে ও বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, আবাসিক এলাকায় এই অ্যাসিডের প্যাকেজিংয়ের ফলে যেসব মারাত্মক অসুবিধা ও বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে:
১. বাতাসে ছড়াচ্ছে বিষাক্ত ধোঁয়া, শ্বাসকষ্টে ভুগছে শিশুরা খোলা জায়গায় বা সাধারণ ঘরে অ্যাসিড রিফিল করার সময় তীব্র ঝাঁঝালো গ্যাসীয় ধোঁয়া উৎপন্ন হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসে মিশে সহজেই আশেপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে স্থায়ী শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের জটিলতা, অনবরত কাশি এবং চোখ জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে।
২. দগ্ধ হওয়া ও অন্ধত্বের নিত্য ঝুঁকি
কোনো রকম ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই), গ্লাভস বা চশমা ছাড়া সাধারণ শ্রমিকদের দিয়ে এই কাজ করানো হচ্ছে। ঘনবসতিপূর্ণ রাস্তায় বা গলির মুখে প্যাকেজিং বা পরিবহনের সময় সামান্য অসাবধানতায় অ্যাসিড ছিটকে পড়লে পথচারী ও শ্রমিকদের শরীর মারাত্মকভাবে দগ্ধ হতে পারে। চোখে লাগলে চিরতরে অন্ধ হয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি রয়েছে
৩. ঘরবাড়ি ও বৈদ্যুতিক লাইনের দ্রুত ক্ষয়
হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড একটি অত্যন্ত তীব্র ক্ষয়কারী (Corrosive) রাসায়নিক। বাতাসে এর বাষ্প ভেসে বেড়ানোর কারণে আশেপাশের বাড়িঘরের টিনের চাল, জানালার লোহার গ্রিল ও বৈদ্যুতিক তারে দ্রুত মরিচা ধরে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বাড়ছে।
৪. পরিবেশ ও ভূগর্ভস্থ পানির বিপর্যয়
প্যাকেজিং শেষে উচ্ছিষ্ট অ্যাসিড কিংবা বোতল ধোয়া রাসায়নিক মিশ্রিত পানি সরাসরি এলাকার সাধারণ ড্রেনে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এতে ড্রেন ও মাটির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এই রাসায়নিক ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে প্রবেশ করলে এলাকার সাধারণ পানির উৎসগুলোও বিষাক্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি: প্রচলিত আইন অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের অ্যাসিড বা তীব্র রাসায়নিকের ব্যবসা, রিফিল ও বাজারজাতকরণের জন্য নির্দিষ্ট লাইসেন্স ও কঠোর নিরাপত্তা বলয় থাকা বাধ্যতামূলক। আবাসিক এলাকায় এই ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ অবৈধ। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অনতিবিলম্বে এসব অবৈধ প্যাকেজিং কারখানার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হোক এবং সাধারণ বোতলে অ্যাসিড বিক্রি বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক। অন্যথায় যেকোনো মুহূর্তে একটি বড় ধরনের প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা এড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।