গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরে পৃথক অভিযানে চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মারধর, ছিনতাই ও অন্যান্য মামলায় মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কাশিমপুর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া একটি মোবাইল ফোন, ছিনতাই হওয়া একটি মোবাইল ফোন এবং ঘটনায় ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) কাশিমপুর থানা পুলিশ জানায়, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মারধরের মামলায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোঃ মিঠুন দেওয়ান (২৪), মোঃ মিজান দেওয়ান (২৭), খাদিমুল ইসলাম (১৯) ও মোঃ আলী হোসেন (৪৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে কর্মরত। প্রধান আসামি মিঠুন দেওয়ান একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও অসদাচরণের কারণে চাকরিচ্যুত হন। এরপর থেকেই তিনি বাদীর প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। গত ২৬ জুন দিবাগত রাত ২টার দিকে বাদীর অনুপস্থিতিতে তার ছোট ভাই টি. এম. ইসমাইল হোসেনকে জরুরি কাজের কথা বলে দরজা খুলতে বাধ্য করে আসামিরা। পরে তারা ঘরে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মারধর করে, হাতে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করে এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ ১৬ হাজার টাকা ও প্রায় ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি OnePlus Nord CE5 মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পরে বিভিন্ন নম্বর থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি এবং অপহরণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযান চালিয়ে প্রথমে মিঠুন দেওয়ানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় লুট হওয়া মোবাইল ফোন ও ঘটনায় ব্যবহৃত সুইচ গিয়ার উদ্ধার করা হয়।
পৃথক আরেকটি ছিনতাই মামলায় মোঃ আবুল হোসেন (২৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ জুন সকালে বাগবাড়ী এমব্রয়ডারি ফ্যাক্টরি সংলগ্ন ব্রিজের ওপর এক গার্মেন্টস শ্রমিকের পথরোধ করে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একটি Infinix Hot 60 Pro স্মার্টফোন ও নগদ ৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় সে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।
এছাড়া অন্যান্য মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কাশিমপুর থানা পুলিশ। সব মিলিয়ে পৃথক অভিযানে মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কাশিমপুর থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।