ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুকনো খাবার, মেডিকেল টিম ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টায় পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ২৯ দশমিক ৭৬ মিটার, যা বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ দশমিক ৮৩ মিটারে, যা বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হয়।
পাউবো জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় জেলার নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
পানি বৃদ্ধির ফলে তিলাই ইউনিয়নের দক্ষিণ তিলাই ও দক্ষিণছাট গোপালপুর গ্রামের শতাধিক বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ছিট পাইকেরছড়া ও পাইকডাঙ্গা, সোনাহাট ইউনিয়নের চরবলদিয়া ও চর শতিপুরী, চর-ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর এবং আন্ধারিঝাড় ইউনিয়নের চর বাড়ুইটারী ও চর ধাউরারখুটিসহ একাধিক চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে ছিট পাইকেরছড়া গ্রামের শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
তিলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বলেন, “আমার ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। সোমবার পর্যন্ত তারা কোনো ত্রাণ বরাদ্দ পাননি।”
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, সোমবার সকাল ৯টায় দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় জেলার নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ জানান, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এছাড়া দুর্গত মানুষের সহায়তায় শুকনো খাবার, মেডিকেল টিম ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, “বন্যা মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।