আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসনের প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাঁরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাচ্ছেন। দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি।
তিনটি উপজেলা গঠিত নওগাঁ-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৭ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৪ জন আর হিজড়া ভোটার রয়েছেন চারজন।
গত কয়েকদিন আগে নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা এলাকায় পাঁচজন হিজড়ার সঙ্গে কথা হয় এই
এই প্রতিবেদকের। এর মধ্যে দুইজন এই আসনের ভোটার। তিনজন এখনো ভোটার হননি। পাঁচজনেই নির্বাচন ও নির্বাচিত সরকার নিয়ে বলেছেন প্রত্যাশার কথা।
ময়না নামের একজন বলেন, ‘ভোট তো একজন নাগরিকের অধিকার। দেশের নাগরিক যখন হছি তখন তো ভোট দেওয়ায় লাগপে। আগামী ১২ ফেব্রয়ারি সকাল সকালই ভোট দিব বলে মনস্থির করেছি।’
কোনো প্রার্থী ভোট চেয়েছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, রাস্তাঘাটে চলাফেরার সময় বিভিন্ন দলের প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকেরা ভোট চেয়েছেন। কুশল বিনিময় করেছেন। তাঁদের প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে বলেছেন। দোয়া-আশীর্বাদ চেয়েছেন।
তিনি বলেন, একটি ভোটের মূল্য আছে। তাই দেখে-বুঝে ভোট দিব। সৎ ও যোগ্য লোককে ভোট দিবেন বলে জানালেন। আরশী নামের আরেকজন বলেন, এর আগে দুইবার ভোট দিয়েছেন।এবারও ভোট দিবেন।
নির্বাচিত সরকারের কাছে কি আশা করেন
জানতে চাইলে বলেন, ‘এমন নির্বাচিত সরকার চাই যারা সুখে-দুঃখে আমাদের পাশে থাকবে। আমাদের অসুবিধা-সমস্যার কথা শুনবে। সহযোগিতা করবে। আমাদের জন্য কার্যকরী দীর্ঘমেয়াদী একটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিবে। মাসিক ভাতার ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা কার্ড করে দিবে। এভাবে টাকা তুলতে আর ভালো লাগে না। লোকে ‘অন্যচোখে’ দেখে। কটু কথা বলে। তখন খুব খারাপ লাগে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হিজড়া বলেন, ‘ভোটার হওয়ার জন্য মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়েছিলাম। তাঁরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলেছিল। কিছু কাগজ জোগাড় করেছিলাম। অলসতায় বাদবাকি কাগজ আর জোগাড় করা হয়নি। অফিসেও যাওয়া হয়নি।
আগামী সরকারের কাছে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে
মুঠোফোনে মালকা নামের এক হিজড়া বলেন, ‘এখন দুই চরণ চলোছে তাই লোকজনের কাছ থ্যাকা এলাকা ঘুরে টাকা তুলোছি। খাওছি, চলোছি। যখন দুই চরণ আর চলবে না তখন হামাক কে দেখবে। তাই আগামী সরকারের কাছে হামার চাওয়া হলো হামাকেরে জন্য একটা কাজের ব্যবস্থা করে দিলে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে আর টাকা তুলা লাগবে না। বয়সকালে একটা ভাতার ব্যবস্থা করে দিক। হামরা আট-দশ জনের মত স্বাভাবিক জীবন চাই। সামাজিক মর্যাদা লিয়্যা বাঁচপার চাই।’মেঘনা নামের আরেকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।