প্রখর রোদের পাশাপাশি ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি মিলেছে না কোথাও। অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় জ্বর, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। গরমে অনেক শিশু ডায়রিয়া, হাঁপানি, নিউমোনিয়া জ্বরে ভুগছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে।
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, মঙ্গলবার (০২ জুন) দুপুর পযন্ত ডায়রিয়া ও শিশু ওয়াডে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৬৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী রয়েছে।
এ ছাড়া হাসপাতালগুলোর আউটডোরে এসব রোগে আক্রান্তদের ভিড় বাড়ছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ডায়রিয়া ও নিমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এরই মধ্যে রোগীর চাপে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বাড়ানো হয়েছে বেড তবে ডায়রিয়া রোগীর জন্য শয্যা সংখ্যা সংকুলান। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে ওয়ার্ডের বাইরে চলাচলের রাস্তার মেঝেতে থাকছেন।
এদিকে শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে শিশু ওয়ার্ডে লাকী বেগম বলেন, আমার ছেলে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি করেছি, এখন পযন্ত অসুস্থ কমেনি। কিছু ঔষধ হাসপাতাল দিছে বাকী ঔষধ বাহির থেকে কেনেছি। ডাক্তার বলছে প্রতিদিন চারবার গ্যাস দিতে।
চওড়া বড়গাছা কুড়িগ্রামপাড়া থেকে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে মেয়েকে চিকিৎসা জন্য এসেছেন হামিদুল ইসলাম বলেন, তিনি আশঙ্কা করছেন, তীব্র গরমের কারণেই তার মেয়ের ডায়রিয়া হয়েছে। গত তিনদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি। হাসপাতালে ঠিক মতো ঔষধ না থাকায় বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে।
টেংগনমারী এলাকার নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু আসিকের মা বলেন, আমি ১২ দিন থেকে ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে আছি ডাবল নিউমোনিয়া হয়েছিলো। বর্তমানে আমার সন্তান অনেকেটা সুস্থ আছে।
তবে চেংগামারী থেকে আসা লাবলী বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার দেবরের বউকে হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করেছি। সেখানে একটা সেলাইন দিয়েছে তাছাড়া হাসপাতালে কোন ঔষধ দিচ্ছে না। সব ঔষধ বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে। নার্সদের ব্যবহার খুব খারাপ ঔষধ চাইলে তারা আমাদের রাগ দেখায়। হাসপাতালে এসে ঠিক মত ঔষধ পাওয়া যায় না। হাসপাতালে দু’একটা ঔষধ ছাড়া বাকী ঔষধ বাহির থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স বলেন, অতিরিক্ত গরমে ডায়রিয়া প্রকোপ বাড়তেছে। অনেক সময় অসচেতন কারনেও হয়। শীতে যেমন ডায়রিয়া রোগী বাড়ে তেমনি অতিরিক্ত গরমেও বাড়ে। আমাদের এখানে পযাপ্ত রোগী আসতেছে। বর্তমান কাজ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিদিন ৪০থেকে ৫০ জন নতুন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল আউয়াল বলেন, নীলফামারীতে ভাপসা গরমে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, হাঁপানী, এ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টসহ রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে এই গরমে শিশুদের রোদে বের করা যাবে না। বাহিরে খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। পানি বেশি করে খাওয়াতে হবে। এরপরও অসুস্থতা বোধ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে এসে বিশেষজ্ঞ চিকিসকের পরামর্শ পরামর্শ দেন তিনি ।
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোঃ আব্দুল্লাহেল মাফি বলেন মূলত গরমে ডায়রিয়ার, নিউমোনিয়া জ্বরসহ শিশুরা বিভিন্ন রোগে প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। আর এবারও গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে এলাকায় ডায়রিয়া একটু বেড়েছে। ঔষধ সরবরাহ কম থাকায় আমরাও রোগীদের চাহিদা মতো ঔষধ দিতে পারছি না। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ঔষধ সরবরাহ বাড়বে।