মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসার আড়ালে সীমান্তবর্তী এলাকায় গড়ে উঠেছিল অনলাইন জুয়ার এক আন্তর্জাতিক চক্র। দেশের টাকা অবৈধভাবে চলে যাচ্ছিল ওপার ভারতের কোচবিহারে। তবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হয়নি। কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে পুলিশি অভিযানে অবশেষে ধরা পড়েছে এই চক্রের মূলহোতা তথা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ আলাল হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকালে ভুরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের এক বিশেষ অভিযানে শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাংগা বাজারের একটি মোবাইল ব্যাংকিং দোকান থেকে তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আলাল হোসেন উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের জহুর উদ্দিনের ছেলে।
যেভাবে চলত সীমান্তপারের ডিজিটাল জুয়া
পুলিশের বিশেষ সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ধলডাংগা বাজারে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বৈধ ব্যবসার আড়ালে নিষিদ্ধ অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করে আসছিলেন আলাল।
আন্তর্জাতিক লিংক তিনি এই দোকানের আড়ালে সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের কোচবিহার রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইটগুলোতে টাকা রিচার্জের (ডিপোজিট) কাজ করতেন।
সাঁড়াশি অভিযান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভুরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন ও ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিনের যৌথ নেতৃত্বে পুলিশ দল ধলডাংগা বাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
নগদ টাকাসহ ডিজিটাল আলামত জব্দ
অভিযানকালে আলাল হোসেনের কাছ থেকে অনলাইন জুয়া পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ আলামত জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল জুয়া ও লেনদেনে ব্যবহৃত ০৪টি স্মার্টফোন অবৈধ নেটওয়ার্কিংয়ের একাধিক মোবাইল সিম কার্ড
রিচার্জের উদ্দেশ্যে রাখা নগদ ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা নতুন ‘জুয়া আইন-২০২৬’ এর আওতায় প্রথম সারির অ্যাকশন
১৬৬ বছর পর ব্রিটিশ আমলের পুরোনো আইন সংস্কার করে বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি যে যুগোপযোগী “জুয়া আইন-২০২৬” জারি করেছে, তার কঠোর প্রয়োগ দেখা গেল এই অভিযানে।
এ বিষয়ে ভুরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন,
”১৬৬ বছর পর ব্রিটিশ আমলের আইন সংস্কার হয়ে নতুন জুয়া আইন-২০২৬ জারি হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এই উপজেলাকে মাদক, চোরাচালান ও জুয়া মুক্ত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃত আলালের বিরুদ্ধে সদ্য প্রণীত “জুয়া আইন-২০২৬” এর অনলাইন জুয়া খেলা ও পরিচালনার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযান নিয়মিত চলবে।