আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কুড়িগ্রাম-১ (ভূরুঙ্গামারী–নাগেশ্বরী) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা জামায়াতের নির্বাচনী কার্যালয়ে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
ইশতেহার ঘোষণাকালে অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচিত হলে আমি জনপ্রতিনিধি নয়, আপনাদের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। উন্নয়নের মিথ্যা আশ্বাস দিতে চাই না। তবে আল্লাহর রহমতে নির্বাচিত হলে নিজে দুর্নীতি করব না এবং কাউকেও করতে দেব না।”
তিনি ইশতেহারে উল্লেখ করেন, এলাকার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পৌর এলাকা ও উপজেলা সদরের জলাবদ্ধতা ও পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। নারী, শিশু, কর্মজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তরুণ সমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। নদীভাঙন কবলিত এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং কালিগঞ্জ ঘাটে দুধকুমার নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণের ঘোষণাও দেন।
এছাড়া ভূরুঙ্গামারীতে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ, সোনাহাট স্থলবন্দর আধুনিকায়ন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং কচাকাটায় একটি ৩০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপনের কথা ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
ইশতেহারে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, চুরি ও সন্ত্রাস নির্মূলের অঙ্গীকার করা হয়। পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণ উদ্যোক্তা গড়ে তোলা, কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা, সীমান্ত সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সুশাসনের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম-১ আসনে আধুনিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “এটি শুধু প্রতিশ্রুতির তালিকা নয়, বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনার সমন্বয়ে গঠিত একটি ইশতেহার। উন্নয়ন বরাদ্দ যা আসবে, তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে ইনশাআল্লাহ।
ইশতেহার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন নদীভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমির আজিজুর রহমান সরকার স্বপন, উপজেলা জামায়াতের আমির আলহাজ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন, সাবেক উপজেলা আমির মাওলানা রুহুল আমিন হামিদী, ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরিফুল ইসলামসহ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।