নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ভাবুনচুর পূর্বপাড়া গ্রামে খাস জমি বন্দোবস্তের নামে এক ব্যক্তির ক্রয়কৃত ও পৈত্রিক সূত্রে ভোগদখলীয় জমি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে বেদখল হওয়া সম্পত্তি ফিরে পেতে ও আইনগত সহায়তা চেয়ে ‘উপজেলা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন সংস্থা’র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নবর উদ্দীন (প্রয়াত কলিম উদ্দিন সাধুর ছেলে)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯৮২ সালের ১৫ মার্চ ১৯৮৪ নম্বর দলিলমূলে মৃত আবতাব উদ্দিনের ছেলে নুরুল হকের কাছ থেকে ২ একর ২৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন নবর উদ্দীন। পরবর্তীতে উক্ত জমির প্রায় ৬০ শতাংশের ওপর দিয়ে একটি সেচ প্রকল্পের ক্যানেল নির্মিত হলে সরকার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণের অর্থও গ্রহণ করেন তিনি। তবে সম্প্রতি ২৪৯৩ দাগে থাকা তার অবশিষ্ট প্রায় ১ একর ৬৩ শতাংশ জমি এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কথিত ভূমিদস্যু বে-দখল করে নেয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রভাবশালীরা তার ক্রয়কৃত সম্পত্তিকে সরকারি খাস জমি হিসেবে দেখিয়ে নিজেদের নামে বন্দোবস্ত নিয়েছে। এ ঘটনায় নবর উদ্দীন ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫ জনকে আসামি করে অভিযোগ জমা দেন। মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্তদের মধ্যে কবিলিয়াতধারী যাদু মিয়া কাগজপত্র দেখাতে পারলেও বাকিরা কোনো বৈধ নথি উপস্থাপন করতে পারেননি।
নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভুক্তভোগী নবর উদ্দীনের নামে ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ রয়েছে (রশিদ নং: ৭৩৩৬২২০০৯০৭৫)। এমনকি ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও এপ্রিল মাসে তিনি অনলাইনে নামজারি ও জমাখারিজের জন্য আবেদন করেন (কেস নম্বর: ৫৭৩৯৫২২ ও ৫৫১৯৯৩৮)। তবে জমিতে ভুক্তভোগীর বাস্তব দখল নেই—এই অজুহাতে ভূমি কর্তৃপক্ষ আবেদনগুলো বাতিল করে দেয়।
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোল্লা ইফতেখার আহমেদ জানান, বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারের জন্য ভুক্তভোগীকে প্রথমে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করতে হবে। সেখান থেকে তদন্তের নির্দেশ আসলে ভূমি অফিস প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
ভুক্তভোগী নবর উদ্দীন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই এবং দখলদারদের হাত থেকে পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।