1. infojayjaysomoy@gmail.com : দৈনিক যায়যায় সময় : দৈনিক যায়যায় সময়
  2. info@www.jayjaysomoy.com : দৈনিক যায়যায় সময় :
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কালিয়াকৈরে মহাসড়কের পাশে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার আদর্শ সাংবাদিকতা: সততা ও সাহসিকতার নাম সাংবাদিক মোঃ বাদল হাওলাদার পাবনা সহ ৬ জেলায় বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ নিয়ামতপুরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে পুলিশ সদস্যকে মারধর, গ্রেপ্তার ১ বরগুনার তালতলীতে প্রতারক ছেলের ফাঁদে পরে সর্বশান্ত পিতা  রৌমারীতে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন সরকার কৃষিঋণ মওকুফসহ নির্বাচনী উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতি গুলোর মধ্যে এটি একটি ,প্রধানমন্ত্রী উদয়পুর ইউনিয়নে বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে বিএনপি নেতাকর্মীদের মিলনমেলা ভাসানীর মাজার জিয়ারত করলেন, প্রধানমন্ত্রী

পাবনায় বিটিসিএল অফিসে কোটি টাকা ব্যয়ে সেবা নেই,আচরণে তাচ্ছিল্য

পাবনা জেলা প্রতিনিধি:-
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৯৭ বার পড়া হয়েছে

চাহিদা নেই দাবি করেও কোটি টাকার বাজেট, গ্রাহক ভোগান্তিতে, সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) এর পাবনা জেলা অফিস কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত সাধারণ গ্রাহকরা। অভিযোগ রয়েছে, এখানে অফিসে নিয়মিত কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত থাকেন না। যারা থাকেন, তাদের অনেকেই দায়িত্বহীন, সেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। আর নতুন সংযোগ, বিল সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা লাইন বিকলের অভিযোগ নিয়ে গেলে, গ্রাহকরা পড়েন আরও ভোগান্তিতে।

অফিসে গিয়ে দেখা যায়, কর্মকর্তারা প্রায়শই ‘বাইরে মিটিংয়ে অথবা ঢাকায় ফোন করতে বলেন এই অজুহাতে দায়সারা আচরণ করেন। কোনো তথ্য জানতে চাইলে অনেক সময় দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা সঠিক উত্তর না দিয়ে তাচ্ছিল্যপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেন। এমনকি স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গেও তারা অসৌজন্যমূলক ও বিরূপ আচরণ করেন বলে একাধিক সংবাদকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, তথ্য সংগ্রহে গেলে বিটিসিএল কর্মকর্তারা বারবার অফিসের দরজা বন্ধ করে দেন অথবা সরাসরি বলেন, আমরা কোনো কথা বলব না। একজন প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, জনগণের টাকায় চলা একটি অফিসে তথ্য নিতে গিয়ে অপমানিত হতে হবে, এটা কল্পনাও করিনি। এদের আচরণ দেখে মনে হয়, যেন তারা জনগণের নয়, বরং ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।

সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রশ্নে কর্মকর্তারা বিব্রত না হয়ে উল্টো উচ্চস্বরে কথা বলেন, হুমকিস্বরূপ আচরণ করেন এবং অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এভাবে তথ্য গোপন রাখার প্রবণতা প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

প্রতি বছর বিটিসিএল পাবনা অফিসের জন্য কোটি টাকার বেশি সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয় অফিস পরিচালনা, সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন সংযোগ স্থাপন ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ। তবে এই বিশাল অঙ্কের টাকা গেল কোথায় সেটা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। কারণ, অফিসের সেবার মান দিনে দিনে নিম্নগামী। গ্রাহকরা বলেন, ইন্টারনেট বা ল্যান্ডফোন লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে মেরামত হতে লাগে ১ থেকে ২ সপ্তাহ। অভিযোগ জানিয়ে কোনো লাভ হয় না।

নাম পরিচয় গোপন রেখে একজন ক্ষুব্ধ গ্রাহক জানান, আমি নিয়মিত বিল দিই। কিন্তু লাইন কাজ করে না। অভিযোগ করলে বলে ঢাকায় ফোন করেন। তাহলে পাবনা অফিস কী করছে?

বিটিসিএল এখনো পুরনো কপার তার (Copper Line) ব্যবহার করছে, যা আধুনিক ব্রডব্যান্ড প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে গ্রাহকরা কম গতির সংযোগ, ঘন ঘন ডিসকানেকশন ও ত্রুটিপূর্ণ লাইনের সমস্যায় ভোগেন। অথচ বাজেটের অধিকাংশই ব্যয় হয় প্রশাসনিক খাতে কর্মকর্তাদের গাড়ি, বেতন, ভাতা ও অফিস পরিচালনায়।

টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন,বিটিসিএল সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক হতে ব্যর্থ হয়েছে। বাজেট আছে, কিন্তু তা ব্যয় হচ্ছে ভুল খাতে। প্রযুক্তিগত রূপান্তর ছাড়া এই প্রতিষ্ঠান টিকে থাকা কঠিন।

অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, অফিসে উপস্থিতি মনিটরিংয়ের কোনো কার্যকর পদ্ধতি নেই। কেউ অফিসে এল না, গেল সেটার কোনো হিসাব রাখা হয় না। তদবিরনির্ভর সংস্কৃতি এতটাই প্রকট যে, ‘উপরের অনুমোদন ছাড়া কোনো কাজ হয় না এই অজুহাতেই কাজ ফেলে রাখা হয় দিনের পর দিন। অনেক কর্মকর্তা নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে চলেন, ফলে পুরো প্রতিষ্ঠানটি অচল হয়ে গেছে।

একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে নির্দিষ্ট নির্দেশ না আসে, ততক্ষণ আমরা কোনো বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। ফলে কাজ পড়ে থাকে, মানুষ হয়রানির শিকার হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিটিসিএলকে পুনর্গঠন না করলে প্রতিষ্ঠানটির পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা চালু করা, অনলাইনে অভিযোগ গ্রহণ ও বিল ব্যবস্থাপনা সহজ করা। অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক খরচ কমিয়ে প্রযুক্তি উন্নয়নের বাজেট ব্যয় করা। স্থানীয় সাংবাদিক ও গ্রাহকদের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করা, সেবার মান নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করা এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃ চালু করা।

রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত একটি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান যদি এভাবে অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার বলি হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠেছে, জনগণের করের টাকায় গড়া বাজেট কোথায় খরচ হচ্ছে? বিটিসিএল পাবনা অফিসের বর্তমান চিত্র যে শুধু হতাশাজনক তাই নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থার পতনও নির্দেশ করে। এখনই সময়, কঠোর নজরদারি, স্বচ্ছতা ও আধুনিকীকরণে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সকল লেখা, ছবি ও অন্যান্য কনটেন্ট “দৈনিক যায়যায় সময়”-এর মালিকানাধীন। অনুমতি ব্যতীত কোনো কনটেন্ট কপি, ব্যবহার, বিতরণ বা পুনঃপ্রকাশ করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। যদি কোনো লেখা, ছবি বা তথ্যের উপর আপনার স্বত্বাধিকার দাবি থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। যথাযথ যাচাই-বাছাই ও প্রমাণ উপস্থাপনের ভিত্তিতে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট অপসারণ করা হবে।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট