নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ -১ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে দুই উপজেলায় পিছিয়ে থেকেও এক উপজেলার ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। নির্বাচনে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর মোহা. মাহবুবুল আলমের সঙ্গে ২০ হাজার ৪৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। নির্বাচনে এ দুই প্রার্থীর কেন্দ্রভিত্তিক সবচেয়ে বেশি ও কম ভোট, সবচেয়ে বেশি ও কম ব্যবধানে জয়-পরাজয়সহ বিভিন্ন সমীকরণ দেখা গেছে।
ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তিন উপজেলার ১৬৬টি কেন্দ্র ও পোস্টালসহ মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৪ ভোট। মাহবুবুল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৬ ভোট।
মোস্তাফিজুর রহমান পোরশা ও সাপাহারে ৯১টি ভোট কেন্দ্রে পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৯৫ ভোট এবং মাহবুবুল আলম পেয়েছেন ৯১ হাজার ২৭৫ ভোট। এ দুই উপজেলায় মাহবুবুল বিজয়ী হয়েছেন ৪ হাজর ১৮০ ভোটের ব্যবধানে।
পক্ষান্তরে নিয়ামতপুরে ৭৫টি কেন্দ্রে মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৯৪৮ ভোট আর মাহবুবুল আলম পেয়েছেন ৬১ হাজার ৩১ ভোট। এ উপজেলায় মোস্তাফিজুর রহমান ২৪ হাজার ৯১৭ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। পোস্টাল ভোটে মোস্তাফিজুর রহমান ৮২১ ভোট আর মাহবুবুল আলম ১ হাজার ৫১০ ভোট পেয়েছেন ।
তিন উপজেলা ও পোস্টাল ব্যালটসহ মোস্তাফিজুর রহমান ২০ হাজার ৪৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের সমীকরণে দেখা গেছে, ১৬৬টি কেন্দ্রের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন কুমরইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। সেখানে পেয়েছেন ১ হাজার ৮৬৭ ভোট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮৪৪ ভোট পেয়েছেন সাবইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে। ১ হাজার ৭৮৮ ভোট নিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে।
ব্যবধানের দিক হতে তিনি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪২৫ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন কুমরইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এরপরে ১ হাজর ৩২৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন চাপড়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। তারপরে ১ হাজার ২৭৭ ভোটের ব্যবধান জয়ী হয়েছেন সাবইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে।
সবচেয়ে কম ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন করমুডাঙ্গা জোহাকিয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে। ওই কেন্দ্রে তিনি পাঁচ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। এরপরে ওড়নপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন সাত ভোটের ব্যবধানে।
অন্যদিকে তিনি সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে হেরেছেন পাতাড়ী ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে। ব্যবধান ৭১৫ ভোট। এরপরে নুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৬৫ ভোটে হেরেছেন।
মাহবুবুল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন নিতপুর দারুস সুন্নাহ সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রে। এখানে পেয়েছেন ১ হাজার ৭১০ ভোট। এরপরে শহীদ পিংকু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১৬৯৫ ভোট পেয়েছেন। তারপরে পাতাড়ী ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে পেয়েছেন ১ হাজার ৬২০ ভোট।
ফলাফল বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, মোস্তাফিজুর রহমান ভারদন্ড লক্ষীতাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পীরপুর লক্ষীতাড়া ভারদন্ড উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে একই সংখ্যক ৭৭৯টি ভোট পেয়েছেন।
নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ সোনার বলেন, ‘নওগাঁ-১ আসনের নিয়ামতপুর উপজেলার জনগণ দলমত, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন। পোরশা ও সাপাহারে বিজয়ী হতে না পারলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়েছি। ধানের শীষ ভোট দেওয়ার জন্য সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। তাঁরা তাঁদের মূল্যবান ভোট ধানের শীষে দিয়েছেন। আগামীতে সকলকে নিয়ে একসাথে কাজ করতে চাই। এই তিন উপজেলার উন্নয়ন করতে চাই।’
জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন বলেন, ‘নওগাঁর ছয়টি আসনেই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলাম। এরমধ্যে পাঁচটি আসনে জয়লাভ করেছি। আমরা সবসময় জনগণের পাশে ছিলাম। জনগণ ভালোবেসে বিএনপিকে ধানের শীষে ভোট দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নওগাঁর ছয়টি আসনের যেসব কেন্দ্রে আমরা ভোট কম পেয়েছি তার কারণ চিহ্নিত করা হবে।’ কারণ চিহ্নিত করে সেসব এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।