দালিফ ছিলো মানবতার ফেরিওয়ালা। তার পরিবার পাবনার সম্ভ্রান্ত। দালিফের কাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল ছিলেন সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের ১৯৬৭-৬৮ বর্ষের ছাত্র সংসদের ব্যায়ামাগার সম্পাদক আর আমি ছিলাম সমাজ কল্যান সম্পাদক। তখন আমরা ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র ছিলাম। পরবর্তীতে আমি ভিপি হই। তারপর সে তার সততা আর নিষ্ঠা দিয়ে পাবনা ৫ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেই পরিবারের ছেলে ফাইয়াজ মুনতাসীর দালিফ ছিলো স্বাপ্নিক মানুষ। সে স্বপ্ন দেখতো অসহায়ের পাশে দারাবার, সেবামূলক কাজ করার বা মানবতার। তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। তার স্বপ্নকে বাস্ববে রূপ দিতে গরে উঠেছে তার নামে “দালিফ ফাউন্ডেশন”। আমি এই ফাউন্ডেশনের সাথে থাকতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। আমি এই সংগঠনের উত্তর উত্তর সফলতা কামনা করছি।
শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১১ টায় বকুলের গলিতে সরকারি নিবন্ধনকৃত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যার
নিবন্ধন নং ১১৮১/২৫ পাবনা “দালিফ ফাউন্ডেশন” – এর উদ্দ্যোগে সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পবিত্র রমজান উপলক্ষে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাবনা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যপক আলহাজ্ব মাহাতাব উদ্দিন বিশ্বাস এসব কথা বলেন।
সংগঠন ও অনুষ্ঠানের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম খোকন বলেন চার বছর আগে ২০২২ সালের ১১ মার্চ দালিফের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার উদ্দেশ্যে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছি।
বয়ঃসন্ধি পরবর্তীতে সুস্থ সবল করে বাচ্চাদের সমস্যাগুলো সাইকিয়াট্রিস্ট এর উপস্থিতিতে কাউন্সিলিং করা হয়। আমরা মুলত ৯ম,১০ম, একদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বেশি গুরুত্ব দিয়ে এ কাউন্সিলিং করে থাকি। যাতে তারা মাদকসহ সকল খারাপ কাজ থেকে দুরে থেকে নিজেকে দেশের সেবা করার যোগ্য হিসাবে গরে তুলতে পারে।
শুধু তাই না গাছ লাগানো, ইফতার সামগ্রী বিতরণ, ঈদ সামগ্রী বিতরণ, খাদ্য বিতরণ, গরম মৌসুমে সরবত বিতরণ ইত্যাদি কাজ করে থাকি।
বিগত বছর গুলোতে তাপদাহের সময় দালিফ ফাউন্ডেশনের “জলপান কার্যক্রমে” একটানা বছরের ৯০ দিন ১শ২০ থেকে ৩০ জনকে সাবমার্সিবলের ঠান্ডা পানি পান, চিড়া, আখের গুড় খাওয়ানোসহ বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করেছি।
এখন আরও কিছু নতুন কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। তারমধ্যে প্রতিবছর ২৮ জনের মাঝে পবিত্র রমজান উপলক্ষে অসহায় দুস্থ নারী-পুরিষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছি। গতবছর সেটা বাড়িয়ে ৪০ জন করেছি। এবছর আরো বাড়িয়েছি। সামনের বছর আরো বেশি মানুষকে দেয়ার ইচ্ছা আছে।
অনুষ্ঠানে ১২ কেজি চাউল, ১ কেজি ছোলা, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ৩ কেজি আলু, ১ কেজি লবন, ১০০ গ্রাম পাপড়, আধা কেজি খেজুর, ১০০ গ্রাম হলুদ গুড়া, ১০০ গ্রাম মরিচ গুড়া, ১০০ গ্রাম ধনিয়া গুড়া, ১ কেজি চিনি, ৩ কেজি পিয়াজ, আধা কেজি রসুন ও ১ কেজি মসুর ডাউলসহ প্রত্যেককে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
সংগঠনের কার্য নির্বাহী সদস্য ও রুপান্তর সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী পাবনার সভপতি দেওয়ান মাজহার মুন্নু’র সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশনাল অফিসার হাফিজ আহমেদ ও মাহাতাব বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক বুয়েট শিক্ষার্থী নীল বিশ্বাস।
আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শেখ সাব্বির আহম্মেদ, কার্যকরী সদস্য ফইরুজ ইসলাম ঐশী এবং মিরাক্কেল স্টার জামিল আহমেদ।
উপকারভোগী আব্দুল খালেক ও আম্বিয়া বেগম বলেন এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য খুবই মহৎ, আমরা আর্থিক উপকারের পাশাপাশি পরামর্শও পেয়ে থাকি। এতে শুধু আমরাই না পুরা সমাজ উপকার পেয়ে থাকে। এর ফলে ভবিশ্যত প্রজন্মকে একটি সুস্থ সমাজ উপহার দেয়া সম্ভব। এই সংগঠনকে চালিয়ে নেয়ে উচিৎ।
উপস্থিত ছিলেন যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সাকিল হোসেন পায়েল, কোষাধ্যক্ষ ফজলে রাব্বি ফারুক, বিশিষ্ট সমাজসেবক শামীম রায়হান চন্দন, খন্দকার রায়হানুল হাবিব, দালিফের দুইজন সহপাঠী শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ইসলাম রওনক ও তানভীর রহমান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, রোজায় খেজুর, শসা, কলা, তরমুজ, বাঙ্গি, ছোলা, মুড়ি, কয়েক প্রকার বরা, শরবত ইত্যাদি দিয়ে মাসব্যাপী ঘোড়াস্ট্যান্ড সাংস্কৃতিক চত্তরে সংগঠনের সৌজন্যে ২০২৪ সালে শুরু হওয়া শহরের বাইরে থেকে ঈদের কেনাকাটার জন্য আসা ৩০ থেকে ৪০ জন পথচারীকে প্রতিদিন বসিয়ে ইফতার করানো কর্যক্রম প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও অব্যাহত রয়েছে।