গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত কলেজছাত্র মো. হৃদয় (২০) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১১ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে কোনাবাড়ি থানাধীন নছের মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আবুল কালাম আজাদ কোনাবাড়ি থানার নছের মার্কেট এলাকার আব্দুল পালোয়ানের ছেলে। তিনি থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতিও ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক ছিলেন।
নিহত হৃদয় টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার আলমগর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। তিনি হেমনগর ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি জীবিকার তাগিদে কোনাবাড়ি এলাকায় থেকে অটোরিকশা চালাতেন।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কোনাবাড়ি-কাশিমপুর সড়কের শরিফ মেডিকেল সংলগ্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন হৃদয়। এ সময় তিনি সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি রাস্তার পাশে সরে দাঁড়ান।
এ সময় দায়িত্বে থাকা শিল্প পুলিশের কয়েকজন সদস্য তাকে আটক করে মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে পুলিশ কনস্টেবল আকরাম পেছন দিক থেকে গুলি করলে ঘটনাস্থলেই হৃদয়ের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ফুফাতো ভাই মো. ইব্রাহীম বাদী হয়ে কোনাবাড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়, যার মধ্যে সাবেক কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদও রয়েছেন।
কোনাবাড়ি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসিফ ইকবাল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, কোনাবাড়ী থানার আলোচিত হৃদয় হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আবুল কালাম আজাদ কোনাবাড়ী থানাধীন কালের ভিটা এলাকায় তিনি অবস্থান করছেন। পরে তাকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে জিএমপি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।