জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী ৩য় বর্ষের অটোপাশের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফের লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও শিক্ষকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ২০২৩ সালের ডিগ্রি ৩য় বর্ষের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা তাদের ৪ দফা দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করে। এক পর্যায়ে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। আন্দোলনের এক পর্যায়ে তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের গাড়ি আটকে দেন।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের বের করে দেন এবং থানা পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একই বিষয়ে ভালো পরীক্ষা দিয়েও ৩-৪ বার অকৃতকার্য হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিশন গঠন করতে এবং এতে শিক্ষার্থীদে ঘাটতি রয়েছে কিনা অথবা উত্তরপত্র মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কোনো গাফিলতি রয়েছে কিনা তা সুষ্ঠুভাবে যাচাই করাসহ চার দফা দাবিতে মানববন্ধন ও অন্যান্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলেন তারা। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তারা তাদের বেধড়ক মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়। তাদের মারধরের কারণে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
অপরদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সোমবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের গাড়ির উপর আবারও চড়াও হয়ে তাকে নাজেহাল করেছে অটোপাশের দাবিতে আন্দোলনরত ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুর ক্যাম্পাস থেকে ঢাকায় ফেরার পথে হামলার শিকার হন উপাচার্য । এর আগে গত ২১ মে অটোপাশের দাবিতে আন্দোলনরত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২ সালের স্নাতক (পাস) পরীক্ষার্থীদের হামলায় প্রথমবারের মতো আহত হয়েছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
অটোপাশের দাবি নাকচ করে অধ্যাপক ড. আমানুল্লাহ বলেন, সামনের দিনগুলোতে শিক্ষার গুণগতমান বজায় রাখার স্বার্থে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অটোপাশ এবং গ্রেস নিরুৎসাহিত করছে। এ ব্যাপারে আরও কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসময় তিনি আরো বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একবার অটোপাশ দিলে দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
এ ব্যাপারে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, খাতা দেখাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাক্কা -ধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। এসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি আটকে দেয় শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এক পর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতিতে আটকে পড়া গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে নিরাপদে চলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।