নীলফামারীর জলঢাকায় ঐতিহ্যবাহী মিরগঞ্জ হাটে পশুর ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে হাট ইজারাদারের বিরুদ্ধে। পবিত্র ঈদ-উল-আযহা কে সামনে রেখে জমে ওঠা পশুর হাটে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অধিকাংশ ভুক্তভোগীরা।
পরে উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ অভিযানে অতিরিক্ত টোল আদায়ের সত্যতা পেলে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি। সরেজমিনে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে উপজেলা হাটবাজার ইজারা কমিটি প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকায় মিরগঞ্জহাট ইজারা প্রদান করেন।
তবে হাটবাজার ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি গরুর জন্য ক্রেতার কাছ থেকে ৫০০ টাকা টোল নেওয়ার নিয়ম থাকলেও সেখানে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিক্রেতাদের কাছ থেকে কোনো টোল নেওয়ার বিধান না থাকলেও তাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত ২০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
হাটে গরু কিনতে আসা ক্রেতা আব্দুর রশিদ জানান, তিনি ৬৫ হাজার ৫০০ টাকায় একটি গরু কিনেছেন। পরে তার কাছ থেকে রশিদ বাবদ ৮০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। একই অভিযোগ করেন আরেক ক্রেতা দিপক। তিনি বলেন, তার কাছ থেকেও ৮০০ টাকা নেওয়া হলেও রশিদে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে হাটের দায়িত্বে থাকা গোলনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ জহুরুল ইসলামের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি সংবাদকর্মীদের জানান, অতিরিক্ত টোল আদায়ের সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় হাট ইজারাদারকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত টোল আদায় না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।