মির্জাপুরে চার বছরের শিশুকন্যা রাজিয়াকে হত্যার পর মা কনিকা বেগম (২৫) আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের ধুপুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক কলহের জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছয় বছর আগে পাশের ধামরাই উপজেলার ঝুরঝুরিয়া গ্রামের কনিকার সঙ্গে ধুপুরিয়া গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে রাজিব হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের সংসারে পারিবারিক কলহ শুরু হয়।
রাজিব মাদকাসক্ত এবং ভবঘুরে। সংসারের অভাব-অনটন এবং স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত।
এ নিয়ে শ্বশুর ও শাশুড়িও ছেলের পক্ষ নিয়ে পুত্রবধূর সঙ্গে ঝগড়া করতেন বলে আশপাশের বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে রাজিব স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেননি।
শুক্রবার সকালে কনিকা তার শিশুকন্যা রাজিয়াকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়ির উদ্দেশে বের হলে শ্বশুর নাজিম উদ্দিন তাদের বাড়ি ফিরিয়ে নেন। সকাল ১০টার দিকে সবার আজান্তে কন্যাশিশু রাজিয়াকে ঘরের ভেতর বালিশচাপা দিয়ে হত্যার পর ঘরের ধরনার সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন কনিকা। সংবাদ পেয়ে মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেন।
মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে মা কনিকা বেগম শিশুকন্যা রাজিয়াকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার পর নিজেও গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।